রৌমারীতে ট্রাকচাপায় নিহত ৫
মায়ের কবরের দুই পাশে চিরনিদ্রায় দুই সন্তান

রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লিপি বেগমের কবরের দুই পাশে দাফন করা হয়েছে দুই সন্তানকে। ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ট্রাকচাপায় নিহত হন ইজিবাইকের পাঁচ যাত্রী। নিহতদের মধ্যে আছেন লিপি খাতুন (২৬) ও তার দুই সন্তান রিশাদ (১২) এবং তুবা (৭)। গ্রামের কবরস্থানে লিপির কবরের দুই পাশে দুই সন্তানকে দাফন করা হয়।
আজ রবিবার সকাল ৮টায় উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চৎলাকান্দা গ্রামের মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দূরদূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
গতকাল শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজার এলাকায় রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কে মালবোঝাই একটি ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন লিপি খাতুন ও তার দুই সন্তান ছাড়াও ছিলেন লিপির বড় বোন শরীফা বেগম (৪২) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত বৃষ্টি নামের এক শিশুকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, একই পরিবারের তিনজনের জানাজায় একসঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কারও নেই। এ শোক কাটিয়ে ওঠা পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তিনি লিপির স্বামী শহিদুল ইসলামের পাশে দাঁড়াতে এবং তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহন ও চালকদের শৃঙ্খলার আওতায় আনতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নিহত লিপির স্বামী শহিদুল ইসলাম রৌমারী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সহকর্মী শহিদুলের স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
শহিদুলের বড় ভাই ও রৌমারী মহিলা কলেজের প্রভাষক সারদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের পরিবার, গ্রামবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষ শোকাহত। তিনি নিহতদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি সড়কে যানবাহন চালানোর সময় চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, অসতর্কতার কারণে এমন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণ ঝরে যায়। চালকেরা সচেতন হলে অনেক প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।




