বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও বহিষ্কার যুবদল নেতা

মোজাম্মেল হক সোহেল।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আড়াই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেল। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হকের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানালেন, সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামের এক বিধবা নারী তার পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় যুবদল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্চনা রানী দাস বারহাট্টা উপজেলা সদরের গুহিয়ালা কোর্ট রোড এলাকার মৃত উচিন্দ্র চন্দ্র দাসের স্ত্রী। তিনি মোজাম্মেল হক সোহেলের প্রতিবেশী।
এর আগে গত ৪ জুলাই মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ৩০ জুলাই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
মোজাম্মেল হক সোহেল উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। সর্বশেষ বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আগেরবারও তাকে ফাঁসানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মোজাম্মেল হক বললেন, তিনি মা-বাবার একমাত্র ছেলে। তার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বাবা নিজের অজান্তে কিছু বলে থাকতে পারেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেশী অর্চনা রানী দাসের পরিবারের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, অর্চনা রানীর ভাবিকে সাত বছর আগে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছে। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে প্ররোচিত করে সংসদ সদস্যের কাছে নিয়ে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মারধরের মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন। এসব অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।



