ডোবার পানিতে ভাসছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় একটি ডোবার পানিতে ভাসমান অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবায় এসব ওষুধ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। ডোবাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ট্যাবলেট, সিরাপ ও ক্যাপসুলসহ নানা ধরনের ওষুধের গায়ে স্পষ্টাক্ষরে সরকারি সরবরাহের সিল দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকের সংশ্লিষ্টরা রোগীদের যথাযথভাবে ওষুধ না দিয়ে তা জমা করে রেখেছিলেন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে ডোবায় ফেলে দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না এবং রোগীরা ওষুধের জন্য গেলে প্রায়ই সরকারি বরাদ্দ নেই বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ধনতলা এলাকার বাসিন্দা জমিলা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, অধিকাংশ সময় ক্লিনিক বন্ধ থাকে। এক দেড় মাইল হেঁটে এসে ওষুধ না পেয়ে চলে যেতে হয়েছে। অথচ গরীবের ওষুধ পাওয়া যায় ডোবার মধ্যে। ক্লিনিকে গেলেই বলে ওষুধ আসে নাই। সরকার ওষুধ দিলেও আমাদের দেওয়া হতো না। তাহলে এত ওষুধ পাওয়া গেলো কেমনে? ওষুধগুলো পেলে গরীব মানুষের কত উপকার হতো?
ওষুধ ফেলে দেওয়ার বিষয়ে দায় নিতে নারাজ ক্লিনিকের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ধনতলা কমিউনিটি স্বাস্থ্য সহকারী মো. মিস্টার জানান, তিনি চলতি সপ্তাহে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এই ওষুধের বিষয়ে কিছুই জানেন না। ক্লিনিকে তিনি ছাড়াও আরও দুজন দায়িত্ব পালন করেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ওষুধগুলোর হয়তো মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম আবু তাহের জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবহিত ছিলেন না। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তবে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।



