‘স্নাইপার’ মন্তব্যে আবু বকরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি

‘স্নাইপার’ মন্তব্যে গ্রেপ্তার আবু বকর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করে আলোচনায় আসা রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে এবার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ওই মন্তব্যের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজ রবিবার কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে আবু বকর সিদ্দিকের মন্তব্যকে ‘হিংসাত্মক ও আক্রমণাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠি ও কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, আবু বকর সিদ্দিক কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরসংক্রান্ত একটি ছবিতে তার করা মন্তব্য নিয়ে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনা হয়। সভায় মন্তব্যটিকে হিংসাত্মক ও আক্রমণাত্মক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ওই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই দিনের কার্যবিবরণীতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কলেজের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলমান মামলায়ও নতুন অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবি দিয়ে ফেসবুকে করা একটি পোস্টে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
রবিবার কারাগারে আটক আবু বকরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়ার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানার জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া মন্তব্যটির পেছনে কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। ঘটনার সঙ্গে কোনো চক্র বা নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা আলামতের বাইরে অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে কি না, তা উদ্ধারের কথাও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি দেখতে পায়। ছবিটি ছিল রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসের।
ওই ছবির মন্তব্যের ঘরে লেখা ছিল, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।’ তদন্তকারী সংস্থার নজরে এলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মন্তব্যকারীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে ডিবি ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। ওই দিন বিকাল ৫টার দিকে রাজশাহীর পবা থানার ঘোল হাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিক ও তার বাবা মো. আয়নাল হককে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু বকর নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্যটি করার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। তবে তার বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্য বা সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে প্রাথমিক যাচাইয়ে উঠে আসে। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।



