‘এখানে দেওয়া ছিল ভুল’- এতিমখানায় শিশুর মৃত্যুর খবরে বাবা

সন্তানের মৃতদেহের সামনে হতবাক বসে বাবা। ছবি: আগামীর সময়
হাসাইন-হোসাইন দুই যমজ ভাই। বয়স তাদের ৭ বছর। আট মাস আগে মারা গেছেন তাদের মা জাহেদা খাতুন। এবার এতিমখানায় মৃত্যু হলো হাসাইনের।
ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী এতিমখানায়। আজ সকাল ৯টার দিকে শিশু হাসাইনের মরদেহ পাওয়া যায় প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষের মেঝেতে। নাক-মুখে ছিল রক্তের দাগ। এসব নিশ্চিত করেছেন গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ।
গাংনী উপজেলার আজান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে হাসাইন-হোসাইন। বিপ্লব জানালেন, তার স্ত্রী আট মাস আগে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর দেখভালের কেউ না থাকায় দুই যমজ সন্তানকে এতিমখানায় ভর্তি করেন বাবা।
‘এখানে দেওয়া আমার ভুল হয়েছে। কীভাবে মারা গেল আল্লাহ ভালো জানেন’- বলছিলেন বিপ্লব।
ঘটনার বর্ণনায় এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান জানান, সকালের খাবার শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা বাইরে গেলেও হাসাইন কক্ষে অবস্থান করছিল। পরে দুই শিশু তাকে পরে থাকতে দেখে সবাইকে জানায়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এতিমখানায় থাকা তার ভাই হোসাইন বলল, নাশতা খাওয়ার শেষে সে বাইরে খেলতে বের হয়। কিছুক্ষণ পর অন্যরা এসে তাকে ডেকে ভাইয়ের অসুস্থ হওয়ার কথা জানায়। সে গিয়ে দেখে, মেঝেতে ছটফট করছে হাসাইন। পরে সুপারিটেনডেন্ট এসে তাকে হাসপাতালে নেয়।
এটি শ্বাসরোধজনিত মৃত্যু বলে প্রাথমিক ধারণা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাহাবুবুর রহমান নয়নের। তিনি বললেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’
ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে মরদেহ- জানালেন ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ। ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানালেন তিনি।




