ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিবচরের জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি

সংগৃহীত ছবি
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা তাইজুল ইসলামকে দলের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাইজুলকে সাংগঠনিক সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শিবচর উপজেলা জামায়াত।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাইজুল ইসলামের নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি সংগঠনের নজরে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অভিযোগ পর্যালোচনার স্বার্থে তাকে উপজেলা শাখার অধীন সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার দুপুরে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সোমবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে স্থানীয়দের দাবি, একটি ঘরে ওই নারীর সঙ্গে তাইজুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। এ সময়ের ধারণ করা ভিডিও পরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে।
তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নারীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে কথিত চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এ কার্যক্রমের আড়ালে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সরদারের অভিযোগ, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা হতো। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
নিলখী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মো. মিন্টু মাতুব্বরের দাবি, তাইজুল ইসলাম চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন তাইজুল ইসলাম। তবে তার এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনার বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
তাইজুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ নিয়েও ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। শিবচর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ নিয়ে তাদের কাছে আসেন। নিলখী ইউনিয়ন উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় তাইজুলকে দলের দাওয়াত ও প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানিয়েছেন, তাইজুল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করায় স্থানীয় লোকজন তাকে ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হিসেবে মনে করতেন। অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাকে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




