মানবিক থেকে পড়ে খলিলুল্লাহ দিচ্ছিলেন চিকিৎসা, ১০ শিশুর জীবন বিপন্ন

পেশায় ছিলেন মসজিদের ইমাম। শিক্ষায় ডিগ্রি পাস করে নামের আগে বসিয়েছিলেন ‘ডাক্তার’ পদবি। মাত্র ২১ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নিয়ে খুলে বসেছিলেন জমজমাট চেম্বার। সেই চেম্বারে উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে অন্তত ১০টি শিশুর জীবন বিপন্ন করার দায়ে অবশেষে জেলে ঠাঁই হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর হাতুড়ে ডাক্তার হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিল্লাহর (২৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি চুলকানির সমস্যা নিয়ে বেশ কয়েকজন শিশু ইব্রাহিমের ‘বেলগাছি মেডিকেল হলে’ যায়। সেখানে তিনি শিশুদের শরীরে 'আলফাকোর্ট' নামক এক ধরনের শক্তিশালী স্টেরয়েড ইনজেকশন পুশ করেন খলিলিল্লাহ। এর পরেই শুরু হয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া৷ শিশুদের মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে, কারো কারো মুখে লোম গজাতে শুরু করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম ভেঙে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অপচিকিৎসায় শিশুদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে ফুঁসে ওঠেন অভিভাবকরা। গত ৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী ৭ পরিবার।
আজ রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথ অভিযান চালায়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইব্রাহিমকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে জনস্বাস্থ্যের হুমকির মুখে থাকা তার চেম্বারটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলগালা করে দেওয়া হয়।
হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিল্লাহ কয়েকবছর আগে মসজিদের ইমামতি করতেন। এরপর মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে এসএসি পাশ করেন। পরে একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। ২০২৩ সালে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ২১ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় বেলগাছি মেডিকেল হল নামে একটি চেম্বার খুলে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. শামিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ২১ দিনের ট্রেনিং নিয়ে ক্লিনিক খুলে বসা এবং স্টেরয়েড প্রয়োগ করা চরম অপরাধ। এখন সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র মানুষের হাতের নাগালে, তাই সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার দিয়েছেন কঠোর হুঁশিয়ারি, "ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

