অডিও ভাইরাল
ফের বিতর্কে কলমাকান্দা থানা, এবার প্রত্যাহার নতুন ওসি

যোগদানের মাস না যেতেই প্রত্যাহার নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম। ছবি: সংগৃহীত
চোরাইপণ্য জব্দে ঘুষ চাওয়ার ঘটনায় চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রত্যাহার করা হয় নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার এসআইকে। বদলি করা হয় থানার ওসিকেও। গত ৭ মে যোগ দেন নতুন ওসি মো. আবুল হাশেম। মাস শেষে প্রত্যাহার করা হলো তাকেও। এসব কিছুর পেছনে আছে অডিও ভাইরালের ঘটনা।
গতকাল শনিবার রাতে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। দাবি করা হয়, অডিওতে কথা বলা ব্যক্তি ওসি হাশেম। তিনি থানার সদস্যদের উদ্দেশে কথা বলছিলেন। ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ওই রেকর্ডিংয়ে পুলিশের চাকরিকে ওই ব্যক্তি ‘ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বলে উল্লেখ করেন।
তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না... যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না...।’
অডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, ‘বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত-গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এই যে সেইদিন মামলাটা হইলো না, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানান কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নেই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলবো না, কাউরে ঠকাবোও না...’
‘... আরেকটা বিষয় আছে। কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানলো না। আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইঝেন খবর আছে।’
অডিও নিয়ে ফেসবুকে বিতর্ক শুরু হলে প্রত্যাহার করা হয় ওসি হাশেমকে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটিও করা হয়। রবিবার এসব জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম।
তবে অডিওটি ‘আমার না’ বলে দাবি ওসি হাশেমের। ‘কীভাবে এ ধরনের বক্তব্য আমার নামে প্রচার হচ্ছে, তা আমি জানি না। আমি এমন কোনো কথা কোথাও বলেছি বলে আমার মনে হয় না। বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি’- বললেন তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল বলেছেন, ‘অডিও নজরে আসামাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ৭ মে কলমাকান্দা থানার এসআই মো. আবু হানিফকে প্রত্যাহার ও তৎকালীন ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর দুদিন আগে গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। একটি পিকআপ থেকে জব্দ করা হয় ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী।
পরদিন রাতে ফেসবুকে ছড়ায় দুটি অডিও। দাবি করা হয়, অডিওর কথোপকথন এসআই আবু হানিফ ও চোরাচালানের ‘মূল হোতা’ জসিম উদ্দিনের মধ্যে।
ওই রেকর্ডিংয়ে জসিমকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দেবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।’ জবাবে অন্যজন (যাকে এসআই আবু হানিফ বলে দাবি করা হচ্ছে) বলেছেন, ‘না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি তিন লাখ টাকা দেন।’ উত্তরে জসিম বলেছেন, ‘এক লাখ টাকা দিব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা এই ব্যবসা করছেন, এটা নিয়ে দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।’
পরের দিনই এসআইকে প্রত্যাহার ও ওসিকে বদলি করে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার।







