প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ভেঙে পড়ল প্যান্ডেল

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ও জনসভাকে ঘিরে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে উপকারভোগীদের জন্য নির্মিত প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্যান্ডেল খুলে ফেলতে বাধ্য হয় আয়োজকরা।
এতে হাজারো উপকারভোগী, অতিথি ও দর্শনার্থীকে দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও রোদের মধ্যে অবস্থান করতে হয়। একই সঙ্গে মঞ্চের ছাউনিতে পানি জমে থাকা এবং অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চের ভেতরে পানি চুইয়ে পড়ার ঘটনাও দেখা যায়।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ওই মাঠেই দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন এবং জনসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপকারভোগী ও অতিথিদের বসার জন্য মাঠে অস্থায়ী প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ দমকা বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে মঞ্চের সামনের একটি প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে। এ সময় সেখানে অবস্থানরত লোকজন দ্রুত সরে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ভেঙে পড়া অংশসহ খুলে ফেলা হয় পুরো প্যান্ডেল।
এ সময় আরও দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে মূল মঞ্চের ছাউনির ওপর পানি জমে ছিল। ডেকোরেটরসের কর্মীরা বাঁশ দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে জমে থাকা পানি সরানোর চেষ্টা করেন। এতে ছাউনির পানি মঞ্চের ভেতরে পড়তে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির সময়ও মঞ্চের বিভিন্ন অংশে পানি চুইয়ে পড়ার দৃশ্য নজরে আসে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চ, প্যান্ডেল ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্বে ছিল। তবে বর্ষা মৌসুমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অনুষ্ঠানের অংশ নিতে আসা ইকবাল মিয়া অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন। বললেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য যদি এ ধরনের নিম্নমানের প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠানের অবস্থা কী হবে? সামান্য বৃষ্টি ও বাতাসেই প্যান্ডেল ভেঙে পড়েছে, মঞ্চের ওপর পানি জমেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আগে এসব বিষয় আরও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত ছিল।’
একইসুরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রহমত আলী। ‘সকাল থেকেই মাঠে ছিলাম। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্যান্ডেল খুলে ফেলার পর সবাই খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। এতে বৃদ্ধ ও নারী উপকারভোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।’
তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে প্রতীকীভাবে ১০ জনের হাতে তুলে দেন ফ্যামিলি কার্ড।
এ ছাড়া ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে জীবনমান উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার টাকা করে এককালীন সহায়তা, পাঁচজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা অনুদান হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে টেকসই আবাসন নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অব্যবস্থাপনার দায় এড়িয়ে গেলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। তার ভাষ্য, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পুরো টিম ঢাকা থেকে এসেছে। তারাই সারা দেশে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। এখানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো ব্যয় বা বরাদ্দ ছিল না। সরকারি অর্থের ব্যয় কমিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা ছিল বলে জেনেছি। তবুও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দেখেছেন।’
‘দাপ্তরিক কার্যক্রমে কোনো ত্রুটি হয়নি। প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসা মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’— যোগ করলেন ইউএনও।






