চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধ সেতুর নির্মাণকাজ, ঘুরতে হচ্ছে ৩০ কিমি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাগলা নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ১৭২ দশমিক ৩০০ মিটার সেতু। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল নির্মাণকাজ। প্রথম দিকে দ্রুতগতিতে কাজ এগোলেও থমকে গেছে মাঝপথে এসে। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা। সাত মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় পুরনো বেইলি ব্রিজ দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। সেখান দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় বিকল্প পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে স্থানীয়দের। যার প্রভাব পড়ছে কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।
স্থানীয়রা বলছেন, কাজ বন্ধ করে পালিয়েছেন ঠিকাদার। বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৪ সালে। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে সেটিতে বাস-ট্রাক চলাচল করতে পারছে না। বেইলি ব্রিজ একমুখী হওয়ায় পথচারীরা হাঁটার সময় ব্রিজ থেকে নদীতে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও কম নয়।
অবশ্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বর্ষার কারণেই কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
এলজিইডির তথ্য বলছে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কালুপুর বেইলি ব্রিজের পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে ১৭২ দশমিক ৩০০ মিটার সেতু। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর। শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরনো বেইলি ব্রিজে ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষিপণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করেন। এ ছাড়া শিবগঞ্জ থেকে মনাকষা পর্যন্ত সড়কটিও এখন চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি প্রশস্ত করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল ইসলামের ভাষায়, তারা বহুদিন ধরে এই সেতুর অপেক্ষায় আছেন; কিন্তু সাত মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে প্রতিদিন ভয় লাগে। ভারী যানবাহনকেও ঘুরে যেতে হয়। তার মতে, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি পাবে।
তবে ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের ভাষ্য, সেতুর নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ নয়, ভূমি অধিগ্রহণ ও কিছু আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব কারণে মাঠপর্যায়ে কাজের সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। জটিলতা নিরসন হলেই পূর্ণোদ্যমে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
‘প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। আটটি পরিবারকে উচ্ছেদ, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় কাজের গতি কমেছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে’— বললেন তিনি।
পালিয়ে যাওয়ার তথ্য সঠিক নয় দাবি করে তিনি বললেন, ‘উচ্ছেদ শেষ হলেই ডিসেম্বরে কাজ শেষ করব।’
সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে শিবগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে— মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে সে স্বপ্ন এখন নির্মাণকাজের ধীরগতিতে আটকে রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়েই সেতুটি চালু করা হোক।
গত ৯ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা সংযোগ সড়কের জায়গায় থাকা আটটি পরিবারের বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন।
তবে সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসবাসকারী কমেলা, বায়েজিদ, রাজ্জাক ও রুস্তমের ভাষ্য, তাদের অন্য কোথাও বাড়ি করার মতো জায়গা নেই। তারা এখানে বাস করছেন অনেক বছর ধরে। সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দিলে তারা জমি ছেড়ে দেবেন।
শিগগিরই নির্মাণকাজ স্বাভাবিক গতিতে শুরু করার কথা জানালেন শিবগঞ্জ উপজেলার ইউএনও। তিনি বললেন, ‘স্থানীয় মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। উচ্ছেদ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।’



