ফুলবাড়িয়া পৌরসভায় বর্জ্যের ‘কাঁটা’
- আবাসিক জনপদ যেন অঘোষিত ডাম্পিং স্টেশন

জনপদ যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে অঘোষিত ডাম্পিং স্টেশনে
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভার স্বীকৃতি পেয়েছে তিন বছর আগে। তবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বদলে এখনো খোলা স্থানেই ফেলা হচ্ছে শহরের সব আবর্জনা। পৌরসভার চান্দের বাজার খালপাড় এলাকার আবাসিক জনপদ যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে অঘোষিত ডাম্পিং স্টেশনে। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব, আর দূষণের মধ্যে দিন কাটছে প্রায় আড়াইশ পরিবার ও সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগের এই চিত্র এখন পৌরসভার নাগরিক সেবার বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পেলেও এখনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। পৌর কর্তৃপক্ষ জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কথা বললেও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দের বাজার খালপাড় মহল্লা মূলত একটি আবাসিক এলাকা। এখানে প্রায় আড়াইশ পরিবারের বসবাস। একই সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসা, যেখানে পড়াশোনা করছে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা বলছেন, ২০২৩ সালের শেষ দিকে এলাকাবাসীর আপত্তির পরও খালপাড় সড়কের পাশে গর্ত করে শুরু হয় পৌরসভার বর্জ্য ফেলা। এরপর থেকে প্রতিদিন পৌর বাজার ও বিভিন্ন বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে।
খালপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘তিন বছর ধরে আবাসিক এলাকার খোলা স্থানে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন। মাছির কারণে ঘরে রাখা যায় না খাবার। শিশুদের পেটের সমস্যা হচ্ছে, অনেকের দেখা দিয়েছে চর্মরোগও।’
ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হারুন আল মাকসুদের ভাষায়, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে মশা-মাছির বিস্তার ঘটে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। এ ধরনের পরিবেশে মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, অ্যালার্জি এবং শিশুদের পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফুলবাড়িয়া পৌরসভা ২০২৩ সালের ১৪ মে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পায়। প্রায় ১৫ দশমিক ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত এই পৌরসভায় রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড এবং ৭টি গ্রাম।
জনবল সংকটসহ বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন ফুলবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ। ‘পৌরসভায় এখনো গড়ে ওঠেনি নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশন। তাই আপাতত চান্দের বাজার খালপাড় এলাকায় গর্ত করে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য’— বললেন তিনি।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সংসদেও উত্থাপন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন। তিনি ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন। দিয়েছেন সমাধানের আশ্বাস।
‘চান্দের বাজার খালপাড় এলাকায় বর্জ্য ফেলার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হয়েছে আলোচনা। উপযুক্ত জমি পাওয়া গেলে দ্রুত পৌরসভার জন্য স্থাপন করা হবে ডাম্পিং স্টেশন’— বললেন এই জনপ্রতিনিধি।




