শুকনো ডাল কাটার অনুমতিতে শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ কাটার অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
ঝিনাইদহে শুকনো ডাল কাটার মৌখিক অনুমতি নিয়ে শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের বাধার মুখে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া এলাকায় গাছ কাটার কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল কাটার অনুমতি নেওয়া হলেও সেখানে তরতাজা গাছের বড় অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নতুন বাজার এলাকায় সড়কের পাশে থাকা দুটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছের শুকনো ও ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ডাল কাটার জন্য মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়। এ কাজের দায়িত্ব পান জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন হোসেন। এরপর কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে তিনি গাছ কাটার কাজ শুরু করেন। একটি গাছের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং অন্য গাছটির বেশ কয়েকটি ডাল কেটে ফেলা হয়। তবে যে দুটি শুকনো ডালকে ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, শনিবার পর্যন্ত সেগুলো কাটা হয়নি। এরই মধ্যে কাটা কিছু ডাল কালীগঞ্জের কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রউফ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শতবর্ষী এসব গাছ কালীগঞ্জের ঐতিহ্যের অংশ। তরতাজা গাছ এভাবে কেটে ফেলা অন্যায়। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তারা গাছ কাটা বন্ধ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মিল্টন হোসেনের দাবি, বাবলু হোসেন নামের এক ব্যক্তি অফিস থেকে অনুমতি এনে দিয়েছেন। অফিসের দায়িত্বে থেকেই তিনি কাজটি দেখভাল করছেন। কাটা কিছু ডাল বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিস্তারিত জানতে অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
বাবলু হোসেন জানিয়েছেন, তার বাসার সামনে থাকা গাছের একটি ডাল তিনতলা ভবনের ছাদের ক্ষতি করছিল। তাই তিনি জেলা পরিষদে আবেদন করেছিলেন। পরে মিল্টন নামের এক ব্যক্তি শ্রমিক দিয়ে ডাল কাটেন। এ জন্য তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার গাছ কাটার চেষ্টা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানিয়েছেন, সড়কের পাশের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল কাটার জন্য মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং দায়িত্ব দেওয়া হয় মিল্টনকে। শুকনো ডালের পরিবর্তে তরতাজা গাছ কাটার বিষয়টি তার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






