সেন্ট মার্টিনে ১০ ফুট অজগর উদ্ধার

সেন্ট মার্টিনে ১০ ফুট অজগর— সংগৃহীত
সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে তীরে ভেসে আসছিল বিশাল আকৃতির একটি অজগর। দূর থেকে সেটিকে দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যায় সৈকতে খেলতে থাকা কয়েকজন শিশু-কিশোর। পরে সাহস করে কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারে, সাপটি জীবিত। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা ছুটে এসে অজগরটিকে উদ্ধার করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া পাহাড়ি ঢলের স্রোতেই অজগরটি বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভেসে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া সৈকতের পূর্ব পাশ থেকে অজগরটি জীবিত উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, বিকালে সৈকতে খেলতে গিয়ে কয়েকজন শিশু-কিশোর সমুদ্র থেকে অজগরটিকে তীরে উঠতে দেখে। পরে তারা সেটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে আসে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে তাদের পরামর্শে অজগরটি সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখা হয়।
সেন্ট মার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আয়াতুল্লাহ খোমেনি জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। এর ওজন আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ কেজি এবং বয়স তিন থেকে চার বছর হতে পারে।
তার ধারণা, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের স্রোতেই অজগরটি সেন্ট মার্টিনে এসে পৌঁছেছে।
সেন্ট মার্টিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আব্দুল আজিজ বলেছেন, ‘বন বিভাগের পরামর্শে অজগরটি আপাতত ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে নিরাপদ সংরক্ষণ অথবা উপযুক্ত স্থানে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানালেন, শুক্রবার ট্রলারে করে অজগরটি টেকনাফ রেঞ্জে পাঠানো হবে।
টেকনাফ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেছেন, ‘উদ্ধার হওয়া অজগরটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। শুক্রবার বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের পর সেটিকে পাহাড়ের উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৫ জুন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের একটি মরিচক্ষেত থেকে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা আরেকটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সেটিকেও বন বিভাগের মাধ্যমে নিরাপদে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সেন্ট মার্টিনে অজগর উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।





