দুই বান্ডিল টিনে ঘুচল বৃষ্টির ভয়

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় লোকদের হাতে ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণের অর্থ তুলে দিচ্ছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন— সংগৃহীত
বছরের পর বছর বৃষ্টি মানেই আতঙ্ক ছিল শিউলী বেগমের পরিবারের জন্য। আকাশে মেঘ জমলেই দুশ্চিন্তা শুরু হতো- কখন ঘরের ফুটো টিন দিয়ে পানি পড়বে, কখন ভিজে যাবে বিছানা, কাপড় আর ঘরের আসবাব। অভাবের সংসারে নতুন টিন কেনার সামর্থ্য ছিল না। সেই শিউলীসহ রাজশাহীর পবার ১৫টি অসহায় পরিবার এবার পেয়েছে ঘর মেরামতের সহায়তা। দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও ৬ হাজার টাকা করে গৃহনির্মাণ সহায়তা হাতে পেয়ে তাদের চোখেমুখে ফিরেছে স্বস্তি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব পরিবারের হাতে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করে আসছিল। কারও ঘরের টিনে মরিচা ধরেছে, কারও চাল ফুটো হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে। কিন্তু অভাবের কারণে ঘর মেরামতের সুযোগ হচ্ছিল না। সহায়তা পাওয়ার পর নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কাটাখালী পৌরসভার হাজরাপুকুর এলাকার শিউলী বেগম।
তিনি বললেন, ‘এক ছেলে আর স্বামীকে নিয়ে রেললাইনের পাশে সরকারি জায়গায় থাকি। স্বামী কৃষিকাজ করেন। কোনো রকমে সংসার চলে। এই সামান্য আয় দিয়ে ঘরের টিন পরিবর্তন করা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ফুটো টিন দিয়ে পানি ঢুকে সব ভিজে যায়। কত রাত যে বৃষ্টির পানিতে কষ্ট করে কাটিয়েছি, তার কোনো হিসাব নেই। আজ দুই বান্ডিল টিন আর ছয় হাজার টাকা পেয়েছি। এবার ঘরের টিনগুলো ঠিক করতে পারব। বৃষ্টি হলে আর ঘরের ভেতর পানি ঢুকবে না।’ শিউলীর মতো আরও ১৪টি পরিবারের সদস্যদের মুখেও এদিন দেখা গেছে স্বস্তির হাসি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর ঘর মেরামতের সুযোগ পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তারা।
এরফান আলী বললেন, অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এখন স্ত্রীকে নিয়ে এই ঘরেই থাকি। আজ দুই বান্ডিল টিন ও ৬ হাজার টাকা পেয়েছি। এবার ঘরটা নতুন করে ঠিক করতে পারব।
পবার হরিয়ান ইউনিয়নের নলখোলা গ্রামের নুরভানু বেগমও সহায়তা পেয়ে খুশি। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি জানালেন, টাকার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঘরের পুরোনো টিন পরিবর্তন করতে পারেননি তিনি। সরকার ঢেউটিন ও টাকা দেওয়ায় এবার ঘরের টিনগুলো নতুন করে লাগাতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণের অর্থ তুলে দেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এ সময় তিনি বলছিলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট খুবই মানবিক বিষয়। অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণে সরকারের এই সহায়তা তাদের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বললেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সরকারি সহায়তা প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বললেন, যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। এই সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করে কিছুটা স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে।





