স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত দেহ উদ্ধার, প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮

সংগৃহীত ছবি
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্কুলছাত্রী মারিয়ার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকালে নিহতের মা কামরুন্নাহার সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামি করেন সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৫ জনকে।
গত রবিবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত আটক আটজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামসহ (৫৯), আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লা (২৯), নিহতের সহপাঠী ও তার মা-বোন, গোপালনগর গ্রামের মাসুদ হোসেন (৩৫), একই গ্রামের সুজন (৩০) ও সাহরাইল সিদ্ধাবাড়ি এলাকার রাসেল হোসেন (৩০)। এর মধ্যে প্রধান আসামি মেয়েটির সহপাঠী।
হত্যার ঘটনায় গতকাল দুপুরে ওই সহপাঠীর বাড়ি ভাঙচুর করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের থেকে জানা গেছে, গত ১৫ জুন স্কুলের টিফিন বিরতিতে একটি শ্রেণিকক্ষে ‘ঘনিষ্ঠ আচরণের’ অভিযোগ ওঠে মারিয়া ও তার ওই সহপাঠীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ডাকা হয় স্কুলে। তাদের থেকে মুচলেকা নেওয়ার পরেও দুই শিক্ষার্থীকে টিসি (স্থানান্তরের জন্য সনদ) দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নিহতের স্বজনরা জানান, ওইদিনই মারিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পাওয়ায় থানায় করা হয় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)।
রবিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ঝোপের মধ্যে মারিয়ার অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রকে কিশোর আদালতের মাধ্যমে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য সাত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।




