পানির বোতলের আঘাতে অজ্ঞান শিক্ষার্থী, পলাতক শিক্ষক

আহত শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদার ও অভিযুক্ত শিক্ষক কাউছার আহমেদ
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে শিক্ষকের ছোড়া পানিভর্তি বোতলের আঘাতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন আইনে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দুপুরে উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আজ বুধবার খালিয়াজুরী থানায় অভিযোগ করেন আহত শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদারের মামা মারুফ খান।
আহত মুগ্ধ মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে।
অভিযুক্ত শিক্ষক কাউছার আহমেদ মোহনগঞ্জ উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসিরউদ্দিন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ক্লাস চলাকালে মুগ্ধর কলমের কালি তায়েফ নামের আরেক শিক্ষার্থীর হাতে লেগে যায়। এ নিয়ে তায়েফ সহকারী শিক্ষক কাউছার আহমেদের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মুগ্ধকে ডাকেন। পরে পানিভর্তি বোতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
আঘাতের পর মুগ্ধ শ্রেণিকক্ষেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে সহপাঠীরা পানি ছিটিয়ে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলেও অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে যায় সে।
মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাড়িতে ফেরার পর মুগ্ধর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পার্থ সরকার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাউছার আহমেদের মোবাইল ফোনে কল করা হলে আঘাত করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার ভাষ্য, ‘আমি তাকে মেরেছি, এটা সত্য। তবে দুই লিটারের পানির বোতল দিয়ে মারিনি, ছোট পানির বোতল দিয়ে মেরেছি।’
এদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, কাউছার আহমেদ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং সামান্য কারণেও শারীরিক শাস্তি দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেছেন, ‘কাউছার স্যারের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। এটা আমরাও জানি। তিনি প্রায়ই রাগারাগি করেন।’
ওসি মো. নাসিরউদ্দিন বলেছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





