মানিকগঞ্জ
পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাবী ও ভাতিজাকে হত্যা

শোকের মাতম বইছে পরিবার জুড়ে। ছবি:আগামীর সময়
পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুসন্তানকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছোট ভাই ইউসুফ। এমনই এক অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে।
শনিবার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঁচামারা এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। পরে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার (৩১ মে) বিকেলে বাড়িতে পৌঁছালে জানাজা শেষে দাফন করা হয় স্থানীয় কবরস্থানে।
নিহতরা হলেন আব্দুস সালামের স্ত্রী আমিনা খাতুন এবং দেড় বছরের শিশু সন্তান আসওয়াদ। ঘটনার পর আহত অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাঠানো হয় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫ বছর আগে ঢাকায় চলে যান ইউসুফ। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন তিনি, বিভিন্ন সময় বড় ভাই আব্দুস সালামের কাছ থেকে নিতেন আর্থিক সহায়তান। পারিবারিক বিরোধ, জমি-জমা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল টানাপোড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবু মিয়া বলেছেন, ‘সন্ধ্যার পর সালামের সঙ্গে কথা হয়। তখন সে জানায়, ছোট ভাই ইউসুফের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালামের বাড়িতে গেলে দেখি ইউসুফ তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছে। সালাম মাটিতে বসে পড়ে। আমি চিৎকার করি। পরে লোকজন এলে ইউসুফ পালিয়ে যায়। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখি সালামের স্ত্রী ও ছেলের মরদেহ পড়ে আছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে আমি নিজেও অজ্ঞান হয়ে যাই।’
সালামের ভাই বাহারুল মিয়র ভাষ্য, ‘ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া হতো, আবার মিটেও যেত। কিন্তু এভাবে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা করবে, তা ভাবিনি। আমরা ইউসুফের শাস্তি চাই।’
নিহত আমিনা খাতুনের মা মিনা খাতুন দাবি, ‘আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা সেইভাবে বিচার চাই। আমার দেড় বছরের দুধের শিশু নাতির কী অপরাধ ছিল?’
নিহত আমিনা খাতুনের মা মিনা খাতুন বাদী হয়ে ইউসুফকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার। আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।






