সিলেটে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

সিলেট শহরের একটি হাসপাতালের চিত্র। ছবি: আগামীর সময়
সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারালেন ১০৫ জন।
মারা যাওয়া শিশুর একজন হলো ৭ মাস বয়সী নুসিবা। তার বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গুমগুমিয়া এলাকায়। সে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
অপর শিশুটি হলো, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আটালুক এলাকার ২ বছর ২ মাস বয়সী রাফসা। সে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৪৫ জনের হাম ও রুবেলার সংক্রমণ ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মধ্যে হবিগঞ্জে ৫৬ জন (এর মধ্যে ২ জন রুবেলায় আক্রান্ত), মৌলভীবাজারে ২২, সুনামগঞ্জে ২৮৭ জন এবং সিলেট জেলায় ১৮০ রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন সন্দেহজনক রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থ ইস্ট হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে কোনো নতুন ল্যাব কনফার্ম হাম বা রুবেলা রোগী শনাক্ত হয়নি।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৭৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০৫ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০১, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল ও লায়ন্স হাসপাতালে ৩ জন করে, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৮, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব কনফার্ম হাম ও রুবেলা রোগীর সংখ্যা ৫৪৫ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং জ্বর ও শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।





