জনবল সংকটে গজারিয়ার চার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র
গজারিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই জনবল, ভবেরচরে সেবা দেন অফিস সহায়ক

ভবেরচর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখছেন অফিস সহায়ক । ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট এবং ওষুধের অপ্রতুল সরবরাহ রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম।
উপজেলার চারটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের তিনটিতেই রয়েছে জনবলের প্রকট ঘাটতি। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তি ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, উপজেলার চারটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কোনো চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার) নেই। গজারিয়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক মাত্র মিডওয়াইফ সেলিনা আক্তার প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালনে থাকায় ওই কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব কোনো লোকবল নেই। ভবেরচর ইউনিয়ন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট শিরিন আক্তার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে গজারিয়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন।
এদিকে, ভবেরচর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার শারমিন সুলতানা সপ্তাহে একদিন এই কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।
গত সোমবার ভবেরচর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সহায়ক মো. মোফাজ্জল হোসাইনকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার খাদিজাতুল কোবরা অসুস্থতাজনিত কারণে গত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রে আসেন না। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট শিরিন গজারিয়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বসেন। ওই কেন্দ্রের মিডওয়াইফ পদ দীর্ঘ দিন শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসক শারমিন সুলতানা গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখেন বলে জানিয়েছেন অফিস সহায়ক। তিনি দাবি করেন, শারমিন প্রতি বুধবার ভবেরচর কেন্দ্রে সেবা দেন।
এদিকে ইমামপুর ইউনিয়নের রসুলপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান রণি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রায় তিন বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারের পদ কয়েক বছর ধরে শূন্য। একই কেন্দ্রের মিডওয়াইফ নাজনীন আক্তার ও অফিস সহায়ক মোতালেব মিয়া প্রেষণে অন্যত্র আছেন। রোগীদের একমাত্র অবলম্বন ফার্মাসিস্ট ইসরাত জাহান আঁখি। সম্প্রতি ইসরাত তার শিশু সন্তান নিয়ে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন।





