ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে ৪ জনকে অপহরণ, দুজনকে পিটিয়ে হত্যার পর মাটিচাপা
- মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার
- আহত অবস্থায় উদ্ধার আরও দুজন

বুধবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার পর পাহাড়ে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। বুধবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলিজার পাড়া থেকে দুজনকে জীবিত ও একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুরে বড় লেচুপ্রাণ এলাকা থেকে অন্যজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মৃত আবদু সালামের ছেলে মোক্তার আহমদ (৪৮) এবং কালু ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ আকবর (৩০)। আহত দুজন— হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে আলী আহমদ (৪০) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইলিয়াস (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানালেন, হোয়াইক্যং চেকপোস্ট দিয়ে ইয়াবার একটি চালান পার করে দেওয়ার সময় সেখান থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ইয়াবার মালিকপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে গত সোমবার রাতে চারজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের হ্নীলা এলাকার গহিন পাহাড়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নির্যাতনে দুজনের মৃত্যু হলে তাদের মরদেহ পাহাড়ে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
আহত ইলিয়াসের ভাষ্য, ১০ কেজি ইয়াবার একটি চালান আটজন মিলে হোয়াইক্যং চেকপোস্ট পার করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এ সময় চালান থেকে ৩ কেজি ইয়াবা আত্মসাৎ হয়। এ ঘটনার জেরেই ইয়াবার মালিকপক্ষ তাদের চারজনকে ধরে নিয়ে যায়। পাহাড়ে আটকে রেখে তাদের মারধর করা হয়। নির্যাতনকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইলিয়াস আরও জানালেন, তুলাতলী এলাকার মিজান বিচারের কথা বলে তাদের হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে ওই দলের সদস্যরা তাদের পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে মোক্তার আহমদ ও মোহাম্মদ আকবর মারা যান। পরে আহত দুজনের চোখ বেঁধে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পশ্চিম পানখালী এলাকার ভিলিজার পাড়ায় ফেলে রেখে যায় নির্যাতনকারীরা।
বুধবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা তাদের পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে জীবিত ও একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। দুপুরে বড় লেচুপ্রাণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বললেন, মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানালেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



