ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের বিষাক্ত ছোবল, কিশোর-যুবকরা ঝুঁকছে অপরাধে

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের ব্যাপক প্রসারে কিশোর ও যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। গত দুই মাসে উপজেলায় ৩০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের বড় একটি অংশ প্রথমে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নেশায় আসক্ত হয় এবং পরে সেই মাদকের টাকা জোগাতে জড়িয়ে পড়ে কারবারে। মাদক বিক্রির পাশাপাশি এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ মে সর্বশেষ আব্দুল হালিম, সাকিব ও খোকন মিয়া নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল হালিম জানান, তিনি প্রথম দিকে বন্ধুদের দেওয়া ইয়াবা সেবন করতেন এবং এক পর্যায়ে নিজেই তা কেনাবেচা শুরু করেন।
একই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন আঠারো বছর বয়সী সাকিব। তার ভাষ্য, বন্ধুরা দিত, পরে আর দেয় না। ঠেহা যোগাড় করার লাইগ্যা আমি নিজেই বেচা শুরু করি।
মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম।
উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঠালিয়া গ্রামের মামুনুর রশিদ সম্প্রতি তার পাম্প চুরির অভিযোগ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় পাম্প চুরি হয়। ধরা পড়লে দেখা যায় তারা সবাই মাদকাসক্ত এবং নেশার টাকা জোগাতেই মূলত চুরির সংখ্যা বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোহাগী বাজারে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিপুল সংখ্যক কিশোরের আনাগোনা দেখা যায় যাদের অনেকেই বহিরাগত। সেখানে মাদকের সহজলভ্যতার কারণেই কিশোরদের এমন ভিড় জমে বলে তারা দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বললেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।
মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের দাবি, কেবল গ্রেপ্তার নয় বরং মাদকের উৎস বন্ধে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।




