পানিবন্দি স্কুলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

নৌকায় করে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা
চারদিকে শুধু পানি আর পানি। স্কুলে যাওয়ার নেই পথ। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে ছোট্ট একটি নৌকাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা। বর্ষা এলেই যেন পানির মধ্যে ভেসে ওঠে বিদ্যালয়টি। এভাবেই বছরের প্রায় পাঁচ-ছয় মাস পানিবন্দি জীবন কাটে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
শতবর্ষের পুরনো এই বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীদের দুর্ভোগের সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়াও। পানির কারণে অনেক শিক্ষার্থীও নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। ধীরে ধীরে কমছে তাদের উপস্থিতি।
নৌকাই এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। কখনো কখনো নৌকা ডুবে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। কখন নৌকা থেকে পড়ে যায় সন্তান এই ভয়ে অনেক অভিভাবকই বর্ষা মৌসুমে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান না।
শিক্ষকরা বলছেন, এই মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, স্কুলড্রেস ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সেই সঙ্গে পানিতে ভিজে সর্দি-জ্বর ও চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২৪ নম্বর সোনাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মজিবুর রহমান জানান, এই দুর্ভোগের সমাধানে ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের রাস্তা ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার হলেও কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদার শুধু টিন দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে চলে যায়।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মোছা. জ্যোৎস্না খাতুন বললেন, ‘বিষযটি আমাদের নজরে এসেছে।’ এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।



