মানিকগঞ্জ
সেচের মৌসুমে সংকট, বোরোর ফলনে শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট মাসখানেক ধরে। এর সঙ্গে এখন জুটেছে লোডশেডিং। দুয়ে মিলে বেশ ভুগছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার কৃষকরা। সেচের মৌসুমে পর্যাপ্ত ডিজেল ও বিদ্যুতের অভাবে ফলন বিপর্যয়ের দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেছে তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য- এখন চলছে খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম। মাঠে আছে বোরো ধান ও রবির ফসল। উপজেলায় এ বছর ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। ধানগাছ থেকে এখন বের হচ্ছে ছড়া। এই মৌসুমটি সেচনির্ভর কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ ও বাজারে ডিজেলসংকটে প্রয়োজনের অর্ধেক পরিমান সেচও তারা দিতে পারছেন না। অনেক জমিতে পানির অভাবে ধানের চারা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
লোডশেডিং থাকায় সাত বিঘা জমিতে ঠিকমতো পানি দিতে পারছেন না বাগবাড়ির কৃষক তমছের আলী। তিনি আছেন ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায়।
‘ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যায়-আসে। আবার একটু বাতাস ছাড়লেই ঝড় না হলেও কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ রাখে। এভাবে তো ফলন হবে না’- অভিযোগ উপজেলার শিমুলিয়ার কৃষক বাবুল হোসেনের। তিনি এবার ২৭ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন।
উপজেলার তিল্লীর চরে পাঁচ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন মো. আলী। সেচের জন্য স্থাপন করেছেন ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন।
‘আগে এলাকার দোকান থেকে ডিজেল কিনে সেচ চালালেও মাসখানেক ধরে ডিজেলের চরম সংকট।মানিকগঞ্জ পাম্পে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়ে ১০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। যা দিয়ে মাত্র একদিন সেচ দেওয়া যায়। সেচের অভাবে ধান লাল হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে’- আতঙ্কিত এই কৃষক।
উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামে বোরো মৌসুমে সেচ দেওয়ার জন্য বিএডিসির (ডিপ) গভীর নলকুপ পরিচালনা করেন জহির আলী (৬০)। গ্রামের প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে পানি দেন তিনি।
‘প্রতিদিন যেখানে ৫০ বিঘা জমিতে পানি দিতাম, সেখানে লোডশেডিংয়ের কারণে পাঁচ বিঘা জমিতেও পানি দিতে পারছি না। জমির মালিকরা প্রতিনিয়ত সেচ দিতে না পারায় ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ নিয়ে আমার সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন’- বিপাকে জহির আলী।
‘উপজেলায় আজকে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট, কিন্তু আজ বরাদ্দ ৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং দিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যাহত হওয়ায় প্রতিনিয়ত কৃষকরা আমাদের অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতে ফোন করছেন’- অপারগতা স্বীকার সাটুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম ওয়ালিউর রহমানের।
সাটুরিয়ার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাকের তথ্য- চলতি মৌসুমে ফসলের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য উপজেলায় গভীর নলকুপ (ডিপ) আছে ৩৭টি, বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ৮০৭টি ও ডিজেলচালিত অগভীর সেচযন্ত্র আছে ২হাজার ১৭৭টি।
‘বিদ্যুৎ ও তেলের সংকটে এ সময় সেচ কম দিলে হেক্টরপ্রতি ফলন কমে যাবে, পর্যাপ্ত সেচ না পেলে ধানে চিটা হয়ে যাবে।’
সাটুরিয়া উপজেলায় কেবল একটি পাম্প থেকে ডিজেল সরবরাহ হয় একদিন পর পর। প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম- জানালেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম।
‘আমরা কৃষকদের সেচের কাজ সচল রাখতে ডিজেল উত্তোলনের জন্য প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছি। ফসলের ফলন বিপর্যয় ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

