দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকায় যুবদল নেতা বহিষ্কার

বহিষ্কার যুবদল নেতা মহিউদ্দিন ঝাড়ু
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
দলীয় কর্মসূচিতে বারবার অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে সর্বশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারার কথা জানিয়ে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশা করছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগে সতর্ক করা সত্ত্বেও মহিউদ্দিন ঝাড়ু পুনরায় দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে নিজের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে মহিউদ্দিন ঝাড়ু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ক্লিনিকে যেতে হয়। একই দিন পাশের বাড়ির এক নারী মারা যান। এসব কারণে মৌলভীবাজারে জেলা যুবদলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি তিনি।’
মহিউদ্দিন ঝাড়ু বলেন, ‘জেলার কর্মসূচিতে যেতে পারিনি, এটা সত্য। এটা আমারই ভুল। তবে আমার সংগঠন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা করি।’
তিনি আরও জানান, নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও শ্রীমঙ্গল থেকে নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। তাদের যাতায়াতের জন্য গাড়িও ভাড়া করে দিয়েছিলেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের সিনিয়র আহ্বায়ক আব্দুল মুহিত কদরও মহিউদ্দিন ঝাড়ুর পারিবারিক সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘মহিউদ্দিন ঝাড়ুর মেয়ে অসুস্থ ছিল। পাশাপাশি তার প্রতিবেশী এক নারীর মৃত্যু হওয়ায় তিনি কর্মসূচিতে যেতে পারেননি। তবে নেতাকর্মীদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করেছিলেন। আব্দুল মুহিত কদর ও টিটু আহমেদের দায়িত্বে শ্রীমঙ্গল থেকে বাসে করে নেতাকর্মীরা মৌলভীবাজারের কর্মসূচিতে অংশ নেন।’
শ্রীমঙ্গল পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মীর কালাম আহমেদ বলেন, ‘জেলা যুবদলের কর্মসূচি সফল করতে মহিউদ্দিন ঝাড়ু নেতাকর্মীদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। কর্মসূচিতে অংশ নিতে গাড়ির ব্যবস্থাও করেছিলেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে তিনি নিজে যেতে পারেননি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মীর কালাম আহমেদ। এ ধরনের প্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রীমঙ্গলে বিএনপির রাজনীতি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। ওই সময়ে উপজেলা যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন মহিউদ্দিন ঝাড়ু। রাজনৈতিক মামলায় তাকে কারাবাসও করতে হয়েছে।
তার অনুসারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় নানা চাপ ও প্রলোভন উপেক্ষা করে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন তার অনুসারীরা।



