সাতক্ষীরার তালা
মন্দিরে মন্দিরে দীপাবলি উৎসব

সংগৃহীত ছবি
আলো ও অন্ধকারের চিরন্তন লড়াইয়ে আলোর বিজয়ের বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরার তালায় উদ্যাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা ও দীপাবলি।
আজ রবিবার কার্তিক অমাবস্যায় দেবী কালীর আরাধনা ও দীপাবলি উদ্যাপন উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও সনাতনী জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
কার্তিক অমাবস্যার মহানিশায় শাক্ত রীতি অনুযায়ী দেবী কালীর পূজা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় রয়েছে মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও আরতি। অনেক মন্দিরে রাতভর চলবে ভজন-কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত। ভক্তরা জবা ফুল, ফলমূল ও মিষ্টি নিবেদন করে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন।
শ্যামা পূজার পাশাপাশি একই সময়ে পালিত হয় দীপাবলি। প্রদীপের সারি দিয়ে ঘরবাড়ি, মন্দির ও পূজামণ্ডপ সাজিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ প্রকাশ করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’ বাণীর মধ্য দিয়ে দীপাবলির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ফুটে ওঠে।
দীপাবলি শুধু আলোকসজ্জার উৎসব নয়, এটি মানুষের অন্তরে জ্ঞান, বিবেক, সত্য ও শুভবোধ জাগ্রত করার প্রতীক। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ উৎসবের সঙ্গে লক্ষ্মীপূজা ও শ্রীরামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনসহ নানা ধর্মীয় ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। তবে বাংলায় কার্তিক অমাবস্যার অন্যতম প্রধান আয়োজন শ্যামা পূজা।
উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে এ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি রয়েছে পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিবার-পরিজনের মিলন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের আনন্দ।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার জানান, ধর্মীয় এ উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার সুযোগ সৃষ্টি করে। হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্যায় দূর করে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই হোক এবারের দীপাবলির প্রত্যয়। একই সঙ্গে শব্দ ও বায়ুদূষণ এড়িয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, শ্যামা পূজা উপলক্ষে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়নি।



