বগুড়ার ২০ বছরের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণ করতে চাই: শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
বগুড়ার উন্নয়নে অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হচ্ছে না। গত ২০ বছরের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণ করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বগুড়ার উন্নয়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার পাঁচতারকা হোটেল মম ইন-এ আয়োজিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বললেন, ‘বগুড়ার উন্নয়নের ব্যাপারে আমিসহ ৭ এমপি এবং আমরা যারা দায়িত্বশীল রয়েছি, পাভেল সাহেব, রুমন সাহেবসহ সরকারের সঙ্গে যাদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে, আমরা সবাই কাজ করছি। আমি আজকেও স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আমার এক বিন্দুও ছাড় নয়। আমরা অতিরিক্ত চাই না, শুধু বগুড়ার ২০ বছরের ঘাটতি পূরণ করতে চাই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোপালগঞ্জ ও বগুড়াকে আলাদাভাবে দেখতে চান না। সরকার দেশের সব অঞ্চলের সমান উন্নয়নে বিশ্বাসী। বগুড়া একটি কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। প্রধানমন্ত্রী সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তাই বগুড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিগত ২০ বছরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সরকারও ছিল ভয়াবহ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দিয়েছে।’
বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নতুন শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং আলু থেকে স্টার্চ উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকের উৎপাদিত আলুর নতুন বাজার তৈরি হবে। পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ।’
এ ছাড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ, বিমানবন্দর চালু, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা, স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা, সড়ক ও পৌরসভার উন্নয়ন, বগুড়া ওয়াসা এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাসাবাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যক্তিপর্যায়ে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ কিনবে সরকার।’
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বিগত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে ১ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছে।’
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত-শিবির কিংবা আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপিতেও আছে।’
সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে অনেক ভণ্ডামি করা হয়েছে। বগুড়াকে সারা বাংলাদেশের সঙ্গে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। এখনই সময়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাবনায় রয়েছে।’
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘সত্যকে সত্য বলুন, মিথ্যাকে মিথ্যা বলুন। এখন মানুষ কিন্তু অনেক কিছু বোঝে। আপনারা ভুল বোঝাবেন না। সত্যকে তুলে ধরলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটা সরকারের পক্ষে চলে আসবে।’



