গঙ্গাচড়া
ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনে নাখোশ ভোটাররা

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে নির্বাচনে সুবিধা পাইয়ে দিতে দীর্ঘদিনের ভোটকেন্দ্র সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিবর্তন করে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও তুলেছেন তারা। পূর্বের ভোটকেন্দ্র ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সম্প্রতি এলাকায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার কুড়িবিশ্বাস দোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী, আব্দুল আউয়াল, অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে তারা সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু এবার ওই কেন্দ্রের পরিবর্তে দুই কিলোমিটার দূরে তিস্তা নদীর পাড়ে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তাদের অভিযোগ, বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি মহসিন আলী অতীতে চারবার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। নতুন কেন্দ্রটি তার বাড়ির কাছে হওয়ায় তিনি নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের ফলে ভোটের পরিবেশ ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে পূর্বের ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। আবেদনে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ভোটকেন্দ্রটি বহাল রাখার পাশাপাশি ভোটারদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় নারী ভোটার হাফেজা বেগম, রোমেলা বেগম ও লাইজু আক্তারসহ কয়েকজন জানান, নতুন ভোটকেন্দ্রটি নদীর কাছাকাছি। ভোটারদের দাঁড়ানোর মতো জায়গাও নেই। আগামী ভোটে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে গেলে নদীতীরবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুন্নবী জানান, প্রায় ২৩০০ ভোটারের এই ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তনের বিষয়ে উপজেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন তারা। ভোটারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতামত না নিয়েই কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা ও গণশুনানি করা প্রয়োজন ছিল। ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের পেছনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তোলেন নুরুন্নবী।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, সীমানা পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে কোনও চিঠি আসেনি। এমনকি বিষয়টি আমদের জানায়নি পর্যন্ত। তারা কার সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তন করেছে, এটা নির্বাচন কর্মকর্তারা এখন এড়িয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, আমাদের এখান থেকে কিছু করার নেই। এখন সবকিছু জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রহিম নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তন করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এটা ধারাবাহিক কাজ আমাদের। ভোটার সংখ্যার তারতম্য হলে এমনটা হয়ে থাকে। তারপরও এলাকার মানুষের আগের ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবির বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।




