দেশে সারের সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী

রাজশাহীতে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: আগামীর সময়
দেশে সারের কোনো সংকট নেই, ভবিষ্যতেও সংকটের আশঙ্কা নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে সরকারি গুদামে ৩৫ শতাংশ বেশি সার মজুদ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
গতকাল বুধবার রাতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সার, বীজ, সেচ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের প্রবণতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশে সারের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইউরিয়া এবং ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার পাচারের প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের তৎপরতা বন্ধে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সার ডিলারদের অনিয়মের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ করা সার উত্তোলন না করলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ডিফল্টার হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কোনো ডিলার দুর্নীতিতে জড়িত হলে কিংবা সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে নিজের লাইসেন্স অন্যের কাছে ভাড়া বা হস্তান্তর করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সার বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিলারদের জন্য সময়ও নির্ধারণ করে দেন মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে সারের দোকান খুলতে হবে। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার আগে দোকান বন্ধ করা যাবে না। কৃষক যাতে প্রয়োজনের সময় সার পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘কৃষকদের জমিতে পরিমিত ও সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে মৎস্য চাষে সারের ব্যবহার নিয়েও মৎস্যজীবীদের যথাযথ পরামর্শ দিতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহার জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ফসল ও চাষের ধরন অনুযায়ী সারের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।’
কৃষিকে অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষক স্বাবলম্বী হলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহে সরকার কাজ করছে।
রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আট জেলার সার ডিলার সমিতির নেতারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিভাগের সাত জেলার জেলা প্রশাসক অনলাইনে যুক্ত হন। প্রত্যেক জেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা সরাসরি নিজ নিজ জেলার সার সরবরাহ পরিস্থিতি ও তদারকির তথ্য মন্ত্রীকে জানান। এ সময় সার ডিলার সমিতির প্রতিনিধিরাও সার সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।




