নিখোঁজের ২৪ দিন পর শালবনে কিশোরের হাড়গোড়-পোশাক, গ্রেপ্তার ২

মো. সবুজ ও উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়
অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল ১৪ বছরের কিশোর মো. সবুজ। ২৪ দিন ধরে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন মা-বাবা। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুরের একটি শালবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার মাথার খুলি, হাড়গোড় ও পরনের পোশাক। সন্তানের পোশাক ও জুতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা-বাবা। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার সকালে সখীপুর উপজেলার আন্দি এলাকার একটি শালবনের ভেতর থেকে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবুজ সখীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
সবুজের পরিবারের সদস্যরা জানালেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর আর ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সবুজের বাবা। একই দিন গোপালপুর উপজেলার কালীবাড়ী বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অটোভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সবুজের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ছেলেকে খুঁজে বের করতে পুলিশের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন সবুজের মা-বাবা। সে সময় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চান। পরে সখীপুর ও গোপালপুর থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে এসআরবি।
এসআরবি জানিয়েছে, গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা থেকে মো. হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সখীপুরের আন্দি এলাকার শালবনে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সবুজের মাথার খুলি, হাড়গোড় ও ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান (৩৪) ও শাহীন (৩০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। এর আগে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সন্তানের দেহাবশেষ উদ্ধারের পর শোকাহত মা-বাবা হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। যে সন্তানকে ঘিরে তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল, তার এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তারা।
সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন বললেন, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর সবুজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।



