উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলোপাতাড়ি গুলি, যুবক আহত

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের গুলিতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি/৪৩ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কয়েকজন অস্ত্রধারী হঠাৎ করে একটি বসতঘরের সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তারা ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে হাসমত উল্লাহর ডান হাতে দুটি গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত হাসমত উল্লাহ ওই ব্লকের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোহাম্মদ এবং তার এফসিএন নম্বর ১১১১৯৪। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ছোটাছুটি শুরু করলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে ৮ এপিবিএনের পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্র্যাক হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এপিবিএনের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান আরও জানান, হামলার পর ক্যাম্প জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
একইদিনে ক্যাম্প এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
এর আগে গত ৫ মে ক্যাম্প-৭ এলাকায় গুলিতে একজন নিহত এবং দুজন আহত হন। ৬ মে ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি/৪১ ব্লকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ কামাল ওরফে নুর কামাল নিহত হন। তিনি ওই ব্লকের হেড মাঝি এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই ছিলেন।
ঘটনাগুলোর জন্য বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করা হলেও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।
এআরএ প্রধান নবী হোসেন একটি অডিও বার্তায় দাবি করেন, তার ভাই নুর কামালকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরএসওকে দায়ী করেন।
স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা মো. জাফর বলেছেন, ক্যাম্পে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের কারণে প্রায়ই গুলিবর্ষণ ও সহিংসতা ঘটছে। সন্ধ্যার পর মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।
এপিবিএন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও সংঘাতের কারণে ক্যাম্পে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।




