মোহনগঞ্জে বাড়ছে হামের সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পাঁচ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে তারা মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে পাঁচজনই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
রবিবার (৩১ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স রিনা রানী পাল।
আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে ৯ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের গরুহাট্টা এলাকার কাজল মিয়ার ৩ বছরের ছেলে আহম্মদ, সোহাগ মিয়ার ৩ বছরের ছেলে জিহাদ এবং নূর ইসলামের ৯ বছরের মেয়ে অজন্তা আক্তার রয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার উত্তর দৌলতপুর এলাকার শাহীন মিয়ার ৫ বছরের ছেলে আনাস এবং উপজেলার ৫ নম্বর সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের মেদিপাথরকাটা গ্রামের বাবু মিয়ার ৬ মাস বয়সী ছেলে রাফিও আক্রান্ত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তারা সবাই চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ছয় মাস বয়সী একজন, তিন বছর বয়সী দুজন, পাঁচ বছর বয়সী একজন এবং ৯ বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে এটি শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় না আসা শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে।
হাসপাতালের তৃতীয় তলার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের সংকটের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। হাসপাতালে ভর্তি ৬ মাস বয়সী শিশু রাফির মা বিউটি আক্তার জানান, চার দিন ধরে তার সন্তানের জ্বর ছিল। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন।
তার দাবি, আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে, পরে নার্সরা সেগুলো শিশুকে প্রয়োগ করছেন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোমেনুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। বিষয়টি জানতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অলক ক্লান্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
তবে একাধিকবার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






