খালের মাঝে ৩৭ লাখ টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের আলাই খালের মাঝে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পাকা সেতু। তবে সেতুর দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণের কোনো উপকারে না আসা এই সেতু নির্মাণে ৩৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে শুধু অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে।
কাঁচীহারা এলাকার আলাই খালের ওপর তিন বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করে ইসলামপুর পৌরসভা। বর্তমানে সেতুটি খালের মাঝখানে একাকী দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে নেই বসতি কিংবা চলাচলের রাস্তা। বর্ষাকালে এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা নৌকা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেতু-কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৩৭ লাখ ২১ হাজার ১৭০ টাকা। ‘কথা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেখের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই খালের মাঝখানে এই অপ্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় মন্তব্য করেন, সেতু নির্মাণের সময় সাবেক মেয়র একাধিকবার সেখানে গিয়েছিলেন এবং তার ঘনিষ্ঠ লোকজন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের ভাষ্য, নির্মাণকাজও নিম্নমানের হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই সেতুর বিভিন্ন অংশে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, সেতুর আশপাশে কোনো রাস্তা বা বসতবাড়ি নেই। দক্ষিণ পাশে দূরে একটি বাড়ি থাকলেও সেখান থেকেও সেতুতে যাওয়ার কোনো পথ নেই। পুরো এলাকায় রয়েছে গভীর খাল। ফলে সেতুটি ব্যবহার করার সুযোগ কারও নেই।
তাদের আশঙ্কা, বর্ষাকালে খালে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হলে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিবছর এই খালে প্রবল স্রোত বয়ে যায়। এ ছাড়া পানিপ্রবাহেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচীহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে একটি সড়ক পচাবহালা এলাকায় গেছে। খালের পশ্চিম পাশে কাঁচীহারা এবং পূর্ব পাশে আলাই পূর্বপাড়া। এই দুই এলাকার সংযোগের জন্য আগে থেকেই খালের ওপর আরও দুটি বড় সেতু রয়েছে। অথচ নতুন নির্মিত সেতুটির কোনো পাশেই রাস্তা নেই। বর্তমানে খালে পানি না থাকায় আশপাশে ধানের চারা রোপণ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কাঁচীহারা গ্রামের কৃষক আব্দুল করিমের ভাষ্য, ‘রাস্তা না করে সেতু বানাইছে। তাই এই সেতু দিয়া কোনো মানুষ যাতায়াত করতে পারে না। দূরে যে বাড়িটা দেখতেছেন, রাস্তা থাকলে তারাও যাইতে পারত। এই সেতু কার জন্য বানাইছে, যারা বানাইছে তারাই বলতে পারব।’
ইসলামপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বুলবুল আহাম্মেদ উল্লেখ করেন, তৎকালীন মেয়রের সময়েই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময় আপত্তি জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিরা প্রকল্প দিলে সেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হতে পারে।
এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাজমুল হুসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






