স্বামীর প্রথম স্ত্রী-স্বজনদের মারধর-নির্যাতনে হাসপাতালে নারী

ফাইল ছবি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রীকে মারধর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রথম স্ত্রী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনে ওই নারীর দাঁত ভেঙেছে, তার যৌনাঙ্গে ছিটানো হয়েছে মরিচের গুঁড়া- বলা হয়েছে অভিযোগে। তিনি এখন ভর্তি হাসপাতালে।
নির্যাতনের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের আদালতে তোলা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাকিম ইসলাম।
দেবীগঞ্জের চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে গত সোমবার ঘটেছে মারধরের এই ঘটনা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন অভিযোগকারী নারী। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। এসব জানিয়েছেন দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাত চন্দ্র রায়।
ওই নারী জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকেন তিনি। ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। দারগালী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রকল্প এলাকার কাছেই থাকেন দারগালী। গত ১২ জুন তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তারা বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।
বাদী জানান, গত সোমবার আশ্রয়ণ প্রকল্পে তার ঘরে আসেন দারগালী। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তারা বিয়ের কথা প্রকাশ করেন। আশ্রয়ণের লোকজন ওই নারীকে নিজ ঘরে নিয়ে যেতে দারগালীকে চাপ দেন।
রাতেই দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নিজ ঘরে ফেরেন দারগালী। তার ভাষ্য, দ্বিতীয় বিয়ে করায় তার প্রথম স্ত্রী ও পরিবার ক্ষিপ্ত হয়। তারা হামলে পড়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর।
মামলার এজাহারে বলা আছে,দারগালীর স্ত্রী-স্বজনরা বাদীর ধর্মান্তরিত হওয়ার ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। আসামি রাকিব ইসলাম তার মুখে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে ভেঙে যায় একটি দাঁত। আরেক আসামি সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার অর্ধেক চুল কেটে ফেলেন। অন্য আসামিরা ওই নারীর হাত-পা চেপে ধরলে রাকিব তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন।
এসময় মারধর করা হয় দারগালীকেও। ছিনিয়ে নেওয়া হয় ওই নারীর সঙ্গে থাকা ৮৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন। হট্টগোল শুনে আশাপাশের লোকজন গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নেয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাত।






