কুয়াকাটায় সাংবাদিকের ওপর হামলা

আহত সাংবাদিক কে এম বাচ্চুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কে এম বাচ্চু নামের এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে।গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত বাচ্চু দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার কুয়াকাটা প্রতিনিধি।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বাইজিদ শিকদার রানা, পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহীদ শিকদার, ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহীদ সিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লি ও চার থেকে পাঁচজন যুবদল নেতাকর্মী।
আহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার সময় বাচ্চু একা ছিলেন। তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করেন অভিযুক্তরা। তার চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পর তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।
তাদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বাইজিদের একটি নারী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বাচ্চু। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায়ও ক্ষুব্ধ ছিলেন অভিযুক্তরা।
বাচ্চু পরিবেশ ও পর্যটনবিষয়ক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী কাওসার হাওলাদার বলেছেন, ‘চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি বাচ্চু মাটিতে পড়ে আছেন। পরে স্থানীয় আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. বাতেন জানালেন, রোগীর মাথা ও দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ রিয়াজ মন্তব্য করেন , ঘটনাটি আমি জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুকের ভাষ্য, কুয়াকাটায় আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কেউ যদি যুবদলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, অথবা দলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে সাংগঠনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।





