দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পারলেও পারেনি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আকস্মিক পরিদর্শনে। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যে প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছে, একই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাতুল হক তথ্যটি নিশ্চিত করে আগামীর সময়কে জানান, টিফিনের পর শিক্ষার্থী স্কুল থেকে চলে যাওয়া একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা কোথায় যাচ্ছে? কোনো না কোনো শিক্ষকের কাছেই পড়তে? হ্যাঁ, আমরা সেটিও নিশ্চিত করবো। এরই মধ্যে স্পষ্ট বলা হয়েছে স্কুল সময়ে স্কুলেই থাকতে হবে শিক্ষকদের। টিফিন সময়ে শিক্ষার্থীদেরও যাওয়া চলবে না। অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকস্মিকভাবে মাছপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কোলানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কোলানগর একাডেমি পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, উপস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউএনও পাংশা আইডি থেকে এমন তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিদর্শনে কোলানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান সন্তোষজনক পাওয়া যায়। তবে কোলানগর একাডেমির শিক্ষার মান অত্যন্ত দুর্বল বলে প্রতীয়মান হয়। ইউএনও শিক্ষার্থীদের মৌখিকভাবে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে দেখা যায়, কোলানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সহজেই সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে। অথচ একই প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয় কোলানগর একাডেমির ষষ্ঠ শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা সংগ্রহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
একই দিনে মাছপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনেও অনেক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশের কম, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলমান।
এর আগে ২১ জুন পাংশা জর্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সকালে হাজিরা দিয়ে পরে বিদ্যালয় ত্যাগ করা ১৩১ জন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




