ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক
৬ লেনের দাবিতে ৬ কিলোমিটার লম্বা মানববন্ধন

সংগৃহীত ছবি
‘সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ না হয়, আমরা আর কোনো মায়ের কোল খালি হতে দিতে চাই না’-এই আকুতি নিয়ে বরিশালের গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার লম্বা মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের খাঞ্জাপুর এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচির শেষে ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করেন মানববন্ধনকারীরা।
এ সময় মহাসড়কের দুইপাশে যানজট তৈরি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মানববন্ধন শেষে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীমের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, নিরাপদ সড়ক আমাদের অধিকার। কিন্তু বর্তমান সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আমাদের মহাসড়কগুলো আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সড়কে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ, খালি হচ্ছে মায়ের কোল। দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়কে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৫টি দাবি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- বৃহত্তর জনস্বার্থে এবং দক্ষিণবঙ্গের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ভাঙ্গা টু কুয়াকাটা মহাসড়কটি অতিদ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা, চালকদের মাত্রারিক্ত ও বেপরোয়া গতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং প্রতিরোধ করা, মাদকাসক্ত ড্রাইভারদের দ্রুত চিহ্নিত করে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফিটনেসবিহীন, অযোগ্য বা মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি সড়কে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
মানববন্ধনে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুখপাত্র এনাম তালুকদার, জুয়েল হাওলাদার, আশ্রাফুল আলম ছোটন, মুফতি আমিনুল ইসলাম, আশরাফুল আলম ছোটন, ফেরদৌস হাওলাদার, আলী আজগর মোল্লা, লুৎফর রহমান মুন্সী, মো. আতিক মৃধা, জুয়েল হাওলাদার, মো. মনিরুজ্জামান, রেজাউল করিম ও মেহেদী হাসান নোমান প্রমুখ।




