হাতিয়ায় নির্মাণের আগেই ধসে পড়ছে ৮ কোটি টাকার সড়ক

ধসে পড়া সড়ক— আগামীর সময়
নোয়াখালীতে হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আরসিসি ঢালাই ধসে পড়া, ফাটল ও ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে তদন্ত করেছে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ ঘটনায় নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিঝুম দ্বীপের প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান সড়কের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা বাজার থেকে শতফুল বাজার হয়ে নামার বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক আম্পান প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে।
মাইজদী এলাকার আবদুল হাই আরাম নামের এক ব্যক্তি কাজটির দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইতোমধ্যে কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু, রড ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের নির্ধারিত পরিমাপও ঠিক রাখা হচ্ছে না। নির্মাণ করা সড়কের কিছু অংশ সামান্য বৃষ্টিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওপরের স্তর উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের অংশ ধসে পড়েছে।
তারা জানান, কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ জানানোর পরও কাজের মানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আনোয়ার মেম্বার বলেছেন, ‘নির্মাণকাজে অনিয়ম হলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে এবং এর ভোগান্তি পোহাতে হবে স্থানীয় হাজারো মানুষকে।’ ইতোমধ্যে যেসব স্থানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে মেরামত করে বাকি কাজও নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
হাতিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেছেন, ‘আম্পান প্রকল্পের আওতায় নিঝুম দ্বীপের মেইন রোডের কাজ চলমান রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য আজ আমরা সরেজমিনে এসেছি।’
উল্লেখ্য, প্রায় ১৪ বছর আগে আইলা প্রকল্পের আওতায় আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে বন্দরটিলা ঘাট থেকে নামার বাজার বিচ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর সড়কটি ভেঙেচুরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে নতুন করে বিভিন্ন ধাপে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।







