সিলেটে হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট বিভাগে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
আজ শুক্রবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
সিলেট বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে সিলেট বিভাগে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম ও রুবেলা রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ১৫৮ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৮৪ জন, সিলেট জেলায় ৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন রুবেলা রোগী রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩২ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮০ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৯ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি আছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৯ জনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে একজন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের পাঁচ মাস বয়সী শিশু রাইসা। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছয় বছর বয়সী শিশু আলী আফসান, দিরাই উপজেলার ২৭ দিন বয়সী শিশু মুসলিমা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চার বছর বয়সী শিশু শামিমা এবং সিলেট সদর উপজেলার এক বছর দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, দুজনের মৃত্যু ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম রোগের বিস্তার রোধে বিভাগ জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোয় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাসপাতালগুলোয় বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় শিশুদের সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




