চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর হাত-পা ভেঙে দিলেন শ্রমিকদল নেতা

ছবি: আগামীর সময়
পাবনার বেড়া উপজেলায় তিন লাখ টাকা চাঁদার জন্য ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর নাম মিজানুর রহমান। তিনি হোটেল ও গাড়ির ব্যবসা করেন।
অভিযুক্ত রিপন সরদার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের পাশা সরদারের ছেলে। তিনি উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ীকে বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
বেড়া মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা এজাহারভুক্ত করলেই তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মার্কেট নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ী দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর। গত ১৯ জুন শ্রমিকদল নেতা রিপন সরদার তার লোকজন নিয়ে এসে ওই দুই ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে মিজানুরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। তাকে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরম সরদারের অফিসে নিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের ফলে মিজানের হাত ও পা ভেঙে গেছে। শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ সময় তার হাত থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত রিপন ও মহরমসহ কয়েকজন তাদের কাছে প্রথম দফায় চাঁদা দাবি করেছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হলে অভিযুক্তরা একটি মুচলেকা দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পর সম্প্রতি তারা আবারও চাঁদা দাবি শুরু করেন।
আহত মিজানের ভাষ্য, তাদের যৌথ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হতো। এর আগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হলেও সম্প্রতি আবার চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে মারধর ও লুটপাট করা হয়েছে।
তবে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন, ‘ওরা আমাকে আগে মারছে, তাই আমি মারছি। এর আগে সেনাবাহিনীর কাছে ওরা অভিযোগ দিলেও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত ওরা আওয়ামী লীগ করে বলেই আজকে এই ঘটনা ঘটেছে।’
চাঁদা ও আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি সত্য নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেছেন, ‘এই কথা মিথ্যা, আমি এগুলো নেইনি। আর আমি এই ধরনের রাজনীতিও করি না।’ তবে তার লোকজন হালকা মারধর দিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।




