পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যা
আসামির বাড়িতে আগুন, ‘দেখতে গিয়ে’ নিহত ৩

পাবনায় স্কুলছাত্রী রিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. নাঈমের বাড়িতে দেওয়া আগুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গতকাল সোমবার বিকালে একজন এবং আজ মঙ্গলবার সকালে দুইজন মারা যান।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম এসব নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম সাব্বির, একই এলাকার মো. সাবু এবং পূর্ব রাঘবপুর এলাকার সুমন শেখ। আগুন দেওয়া বাড়িটির আশপাশে থাকায় দগ্ধ হন তারা।
গত ৩ জুন (বুধবার) ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় স্কুলছাত্রী রিয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ। মেয়েটি পড়ত মাওলানা কসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে। হত্যার অভিযোগে সেদিনই গ্রেপ্তার করা হয় নাঈম এবং তার দুই সহযোগী তুহিন ও ইয়াসিনকে।
সেদিন বিকালে এ তথ্য জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান। তার ভাষ্য, নাঈমের সঙ্গে রিয়ার প্রেমের সম্পর্ক অনেকদিনের। গত ২ জুন সকালে নাঈমের বাড়িতে যায় রিয়া। সেখানে দুজনের মধ্যে কোনো একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন নাঈম। বন্ধুদের সহায়তায় মরদেহ বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয় নদীতে।
সদর থানার ওসি তারিকুল জানালেন, গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) রিয়ার দাফন শেষে উত্তেজিত এলাকাবাসী নাঈমের বাড়িতে আগুন দেয়। সে সময় নাঈমের পরিবারের কেউ ছিলেন না বাড়িতে। ঘরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বাইরে জড়ো হওয়া স্থানীয়দের কয়েকজন এসময় দগ্ধ হন।
তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে একে একে মারা যান তিনজন। পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানালেন, হাসপাতালে ভর্তি সুমন সোমবার বিকালে এবং সাবু ও সাব্বির মঙ্গলবার সকালে মারা গেছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




