গানেই অমর আলম খান, চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রখ্যাত সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক আলম খান। সংগৃহীত ছবি
প্রখ্যাত সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক আলম খানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল বুধবার। বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য তিনি আজও শ্রোতা-দর্শকের হৃদয়ে অম্লান।
২০২২ সালের ৮ জুলাই মারা যান তিনি।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মরণে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয় ‘গান দিয়ে শুরু’ অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্ব। এতে সংগীত পরিবেশন করেন তাসমিম জামান স্বর্ণা, বিকসাম ও অর্থি। এছাড়া আলম খান সুরারোপিত চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান পরিবেশিত হয়।
চার বছর পেরিয়ে গেলেও তার অগণিত ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আজও তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। গান, চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনে অসামান্য অবদানের মাধ্যমে তিনি বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। সংগীতাঙ্গনে তিনি ‘সুরের কারিগর’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
কিংবদন্তি এই সুরস্রষ্টার চিরনিদ্রার স্থান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মহাজেরাবাদ এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদুল আউলিয়া হযরত খাজা শাহ মোজাম্মেল হক (র.)-এর প্রাঙ্গণে জান্নাতুল ফেরদৌস কমপ্লেক্সে।
১৯৪৪ সালের ২২ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাতি গ্রামে জন্ম নেন আলম খান। তার বাবা আফতাবউদ্দিন খান সেক্রেটারিয়েট হোম ডিপার্টমেন্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন এবং মা জোবেদা খানম ছিলেন গৃহিণী।
১৯৬৩ সালে সুরকার ও সংগীত পরিচালক -এর সহকারী হিসেবে ‘তালাশ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার সংগীতজীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। টানা সাত বছর সহকারী হিসেবে কাজ করার পর ১৯৭০ সালে ‘কাচ কাটা হীরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি একক সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে তার প্রকৃত সাফল্য আসে ১৯৭৮ সালে পরিচালিত ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে। এ চলচ্চিত্রে তার সুর করা ‘ও রে নীল দরিয়া’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কালজয়ী গানে পরিণত হয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি একের পর এক জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান উপহার দেন। তার সুর ও সংগীত পরিচালনায় সৃষ্টি হওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কি জাদু করিলা’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘ভালোবেসে গেলাম শুধু’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেবো না’, ‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’, ‘ও সাথীরে যেও না কখনো দূরে’, ‘কাল তো ছিলাম ভালো’, ‘চুমকি চলেছে একা পথে’ এবং ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ (১৯৮২), ‘তিন কন্যা’ (১৯৮৫), ‘সারেন্ডার’ (১৯৮৭), ‘দিনকাল’ (১৯৯২), ‘বাঘের থাবা’ (১৯৯৯) এবং ‘এবাদত’ (২০০৯) চলচ্চিত্রের জন্য মোট ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ‘কি জাদু করিলা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার বিভাগেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।





