অস্ত্রোপচারে অনিয়ম, জামালপুরে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

মামলার বাদী সাবেরী শারমিন ও তার স্বামী ফারুক হোসাইন। ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর সম্মতি ছাড়া জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ অপসারণের অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মামলার বাদী সাবেরী শারমিনের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর সৃষ্ট জটিলতায় তাকে আরও তিনবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত সোমবার জামালপুর আমলী আদালতে মামলাটি করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার মামলার বিষয়টি সামনে আসে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত জানান, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সাবেরী। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক হলেন জামালপুরের বেসরকারি এমএ রশিদ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
সাবেরী জামালপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার। তিনি শহরের পূর্ব নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এজাহার থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে এমএ রশিদ হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেরী শারমিন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে জানান, তার ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়ের চারপাশে সংক্রমণ এবং ডান ডিম্বাশয়ে রক্তভর্তি সিস্ট রয়েছে। পরে তাকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ২৯ জানুয়ারি ডা. সাবরিনা বরকত ও ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় সাবেরী শারমিন বা তার স্বজনদের সম্মতি ছাড়াই জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ অপসারণ করা হয়। অপসারিত অংশের কিছু অংশ শরীরের ভেতরে থেকে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংক্রমণের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা আবার অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলে সাবেরী শারমিন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত তরল ও পুঁজ বের করা হয়।
সাবেরীর অভিযোগ, এ সময় প্রথম অস্ত্রোপচারের ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে। তবে সংক্রমণ দূর হওয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে যান তিনি। সেখানে ২৩ মার্চ তৃতীয় দফায় এবং ২০ জুন চতুর্থ দফায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
সাবেরী বললেন, ‘একটি ভুল অপারেশনের কারণে আমাকে চারটি অপারেশন করাতে হয়েছে। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। এমএ রশিদ হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমার ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।’
তার স্বামী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেছেন, ‘এমএ রশিদ হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমএ রশিদ হাসপাতালের সিনিয়র অ্যাডমিন ম্যানেজার ছিব্বির আহম্মেদ জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন।



