সরাইল
আগ্রাসী মেঘনা, ভাঙনের শিকার পানিশ্বর

ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আগ্রাসী মেঘনার ভাঙনের শিকার মেঘনাপাড়ের পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, সাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়ারহাটি গ্রামসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র পানিশ্বরের ওসমান চৌধুরী ও আখতার মিয়ার চাতালকলসহ প্রায় ২০টি চাতালকল ও শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার হয়ে গত কয়েক বছরে শতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছাদু মিয়া জানালেন, প্রতিবছরই নদীভাঙনে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চাতালকল বিলীন হচ্ছে। পানিশ্বর এলাকা রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা দরকার।
পানিশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদ মিয়া বললেন, এ পর্যন্ত শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পানিশ্বর বাজারসহ ৪ গ্রামের কয়েক শ পরিবার এখনও ভাঙনের ঝুঁকিতে। এলাকায় অর্ধশতাধিক চাতালকল থাকলেও ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি চাতালকল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী দ্রুত এখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, মেঘনার পশ্চিম তীরের দিকে চরজেগে ওঠার ফলে নদীর স্রোত গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলে এবং ভাঙনের শিকার হচ্ছে। জেগে উঠা চর ড্রেসিং করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহসিন কবির শিহাব বললেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (পার্ট-১) আওতায় পানিশ্বর এলাকায় এক হাজার ৩৫০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজের প্রস্তাব পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে কিছু জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে।’
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের মতে, পানিশ্বর এলাকার নদী ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা প্রশাসনের সীমিত বরাদ্দ দিয়ে এ ধরনের ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ প্রয়োজন।





