মোবারকগঞ্জ স্টেশনে ট্রেন রেখে নিখোঁজ চালক, ফিরলেন এক ঘণ্টা পর

মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেন রেখে ১ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন চালক। ছবি: আগামীর সময়
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেন রেখে হঠাৎ নিখোঁজ হন সাগরদাঁড়ি ট্রেনের চালক। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট আটকে থাকে ট্রেন। ভোগান্তিতে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী। পরে চালক ফিরে এলে ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাগরদাঁড়ি আপ ট্রেনটি খুলনা থেকে রাজশাহী উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিট যাত্রাবিরতির পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও চালকের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরে দেখা যায়, ইঞ্জিনের দরজা বন্ধ এবং ইঞ্জিনও বন্ধ অবস্থায় আছে। এরপর চালকের খোঁজ শুরু হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চালক ফিরে এসে ট্রেন নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন।
দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় যাত্রীরা ক্ষোভে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারীরা সাময়িকভাবে স্টেশন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
ট্রেনের যাত্রী শিক্ষার্থী বাপ্পি বলেছেন, ‘আমার আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহী বিএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। খুলনা থেকে এই ট্রেনে উঠেছি। আমি আজ না পৌঁছাতে পারলে পরীক্ষা দেব কি করে চিন্তায় আছি।’
প্রায় এক ঘণ্টা পর চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি কেন ট্রেন রেখে চলে গিয়েছিলেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য না করে ট্রেন চালু করে যাত্রা শুরু করেন।
সাগরদাঁড়ি ট্রেনের গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, ট্রেনটি খুলনা থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। ছাড়ার সংকেত দেওয়ার পরও ট্রেন না চলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালক ইঞ্জিন রেখে চলে গেছেন। তবে তিনি কী কারণে চলে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার পর চালককে ইঞ্জিনে পাওয়া যায়নি। পরে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তিনি ফিরে এলে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।







