‘ঘাতক’ অন্তরের মরদেহ নিতে আসেনি কেউ

অন্তর মজুমদার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে একই পরিবারের মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে নিহত চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে পরিবারের কাছে।
অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারের মরদেহ নিতে আসেননি তার কোনো স্বজন। তার মরদেহ রাখা হয়েছে সদর হাসপাতালের হিমঘরে।
নিহত অন্তর মজুমদার (৩০) নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। রায়পুর শহরে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন তিনি।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরুপ পাল জানান, গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় অন্তরের। এখন পর্যন্ত মরদেহের দাবি নিয়ে আসেনি কেউ।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিহত মা ও তিন মেয়ের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ হোসেন সিফাতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ হোসেন সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে নিহত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদার নিহতের ঘটনায়ও পৃথক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
তবে কেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। স্থানীয় কেউ কেউ আর্থিক লেনদেনের কথা বললেও সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) আবদুর রাশেদ বলেছেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আশা করছি দ্রুতই এর রহস্য উদঘাটন হবে।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন অন্তর মজুমদার। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার বড় মেয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২০) মারা যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারও (৯) মারা যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অন্তর মজুমদারকে ধরে গণপিটুনি দেয়, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।






