আগামীর সময়কে রবার্ট প্যাটিনসন-জেনিফার লরেন্স
নাচের ক্লাসগুলো ছিল এক্সপোজার থেরাপি

আমেরিকান অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স ও ব্রিটিশ অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন
ব্রিটিশ অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন ও আমেরিকান অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স ‘ডাই মাই লাভ’ চলচ্চিত্রে প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। ৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপামের জন্য মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয় এটি। সিনেমাটি প্রসঙ্গে জুমে হলিউডের এ দুই তারকার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
আপনাদের দুজনকে একসঙ্গে পেয়ে সত্যিই আমি আনন্দিত। ‘ডাই মাই লাভ’ সিনেমাটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। অভিনন্দন! রবার্ট, আপনি কি জেনিফারের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটু বলবেন? কোনো বিষয় কি আপনাকে অবাক করেছে? নাকি সবকিছু আপনার প্রত্যাশামতোই ছিল?
রবার্ট প্যাটিনসন: মোটেও অবাক হইনি। সত্যি বলতে, অবাক না হওয়াটা অদ্ভুত ব্যাপার। কারণ আমি অনেক দিন ধরেই জেনিফারের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। সবসময়ই মনে করেছি, সে একজন অসাধারণ অভিনেত্রী। তবে হ্যাঁ, কিছুটা অবাক হয়েছি যে, সবকিছু অনেক সহজ ছিল। আবার এটাও স্বাভাবিক, আপনি যখন সেরা অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে থাকেন, তখন কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। কারণ আপনাকে সবকিছু নিজে থেকে করতে হয় না।
ব্রিটিশ অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন ‘টোয়াইলাইট’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পাঁচটি চলচ্চিত্রে কাজ করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি পান
জেনিফার এমন একজন, যার সঙ্গে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী চিন্তাভাবনা আদান-প্রদান করে নিতে পারেন। জেনিফার অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং যেকোনো দৃশ্যে খুব দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। তাই তার সঙ্গে কাজ করারি ক্ষেত্রে সেটে এসে শুধু অভিনয় শুরু করলেই হয়, তারপর দেখা যায় দৃশ্যটি কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। এটা খুবই আনন্দদায়ক। সত্যিকার অর্থে খুব একটা অবাক করার মতো কিছু না। বরং আমি এমনটাই আশা করছিলাম।
জেনিফার, রবার্ট প্যাটিনসনের নায়িকা হওয়ার অভিজ্ঞতা হলো আপনার। তার ব্যাপারে আপনার কী মূল্যায়ন?
জেনিফার লরেন্স: রবার্ট এমন একজন অসাধারণ মানুষ, যার সঙ্গে কাজ করা খুবই সহজ। কী যেন শব্দটা, আমার মনে পড়ছে না। তার সঙ্গে কাজ করা দারুণ এক অভিজ্ঞতা। তার মধ্যে কোনো রহস্যময় বা জটিল দিক আছে বলে কখনো মনে হয়নি। সে বেশ সহজ-সরল ও খোলামেলা। আমাকে তার ব্যক্তিগত কোনো জটিলতা নিয়ে ভাবতে হতো না। এ ধরনের চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় এটা সত্যিই খুব স্বস্তিদায়ক।
আমার এবারের প্রশ্ন আপনাদের দুজনের জন্যই— পর্দায় আপনাদের রসায়ন দারুণ বাস্তব মনে হয়েছে। শুটিংয়ের আগে এবং শুটিং চলাকালে আপনারা কীভাবে এ রসায়ন তৈরি করেছিলেন?
জেনিফার লরেন্স: আমার মনে হয়, এর বড় একটা অংশ ছিল পারস্পরিক বিশ্বাস। আর শুটিংয়ের আগে পরিচালক লিন (স্কটিশ নির্মাতা লিন রামসে) আমাদের যে নাচের ক্লাসগুলো করিয়েছিল, সেগুলোও অনেক সহায়তা করেছে। যদিও, যখন ক্লাস করি, সেগুলো ভীষণ বিব্রতকর ছিল!
অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স ‘এক্স-মেন’ এবং ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অভিনয় করে খ্যাতি পান
আমার মনে হয়, ওগুলো ছিল এক ধরনের ‘এক্সপোজার থেরাপি’। যখন আমরা ঝগড়ার দৃশ্য, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বা অন্য কোনো আবেগঘন দৃশ্যের কাজ করতাম, তখন আমার মনে হতো এ কাজটা আমি শুধু জ্যাকসনের (রবার্ট প্যাটিনসন অভিনীত চরিত্রের নাম) সঙ্গেই করতে পারব। আমি তাকে সত্যিই বিশ্বাস করি।
রবার্ট প্যাটিনসন: চলচ্চিত্রটি অসংখ্য ছোট ছোট মুহূর্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আমার মনে হয়, সেগুলোর অনেক দিক থেকেই শুটিং সেটে স্বাভাবিকভাবে ঘটেছে। পরিচালক লিন সেগুলোকে খুবই স্বাভাবিকভাবেই খুঁজে পেয়েছে। এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে আপনার সহশিল্পীর প্রতি এক ধরনের বিশ্বাস থাকা জরুরি। পাশাপাশি নতুন কিছু আবিষ্কার করার উচ্ছ্বাসও থাকতে হয়। আমার আরও মনে হয়, আমাদের মধ্যে সেই বিশ্বাস এবং একসঙ্গে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার আগ্রহ ছিল বলেই পর্দায় সেই রসায়ন তৈরি হয়েছে।
জেনিফার, সিনেমায় আপনার অভিনীত গ্রেস চরিত্রটি সন্তান জন্মের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমার প্রশ্ন, মায়েদের ওপর সমাজে প্রায়ই বিভিন্ন রকম প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাবাদের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রত্যাশা দেখা যায় না। মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব— এ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আপনার অভিমত কী?
জেনিফার লরেন্স: আমার মনে হয়, এটা একটা কঠিন বিষয়। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা ও সামাজিক মানদণ্ড নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে। যতদিন নারীদের সামনে একই সঙ্গে গৃহিণী ও নিখুঁত মা এবং সফল পেশাজীবী হওয়ার অবাস্তব প্রত্যাশা রাখা হবে, ততদিন এ চাপ থেকেই যাবে। আমার কাছে মনে হয়, কর্মক্ষেত্রে যেন নারীরা খুব বেশি এগিয়ে যেতে না পারে সেজন্য এটি এক ধরনের চতুর সামাজিক কাঠামো। জানি না, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হয়তো আমি উপযুক্ত ব্যক্তি নই। তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা হলো, পুরো ব্যবস্থাটাই কারসাজির মাধ্যমে নারীদের জন্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বৈষম্যমূলকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।




