লাতিনের তেতো স্বাদ
৬৪ বছর পর হারল জার্মানি

প্লাতার সেই গোল
একটা দল বিশ্বকাপ জিতেছে চারবার, তাদের প্রতিপক্ষ এই নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতেই এল পঞ্চমবারের মত। কখনো পার করতে পারেনি দ্বিতীয় রাউন্ডের গন্ডি। অথচ তারাই কি না হারিয়ে দিল নিখুঁত যান্ত্রিক ফুটবলের পতাকা বয়ে চলা জার্মানিকে! ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের সাক্ষী হয়ে থাকলেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। ম্যাচের শুরুতে গোল পেয়ে এগিয়ে গিয়েও ইকুয়েডরের সঙ্গে জিততে পারেনি জার্মানি, হেরে গেছে ২-১ গোলে।
কিক
অফের পর ম্যাচের দ্বিতীয়
মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায়
জার্মানি। ডি
-বক্সের
ঠিক বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ
নেন আলেকজান্ডার পাভলোভিচ।
এরপর তার কাছ থেকে বল পেয়ে
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ স্কয়ার পাস
বাড়ান লেরয় সানের উদ্দেশ্যে,
আর
দারুণ এক প্লেসিং শটে নিখুঁত
লো-ফিনিশে
বল জালে পাঠান সানে। তবে
জার্মানদের বেশিক্ষণ এগিয়ে
থাকতে দেয়নি ইকুয়েডর।ডি-বক্সের
বাইরে থেকে নিলসন অ্যাঙ্গুলোর
চমৎকার স্ট্রাইকে,
সমতা
ফেরায় নিরক্ষ রেখার দেশটি!
প্রথম ম্যাচটা ইকুয়েডর ১-০তে হেরেছিল আইভরি কোস্টের সঙ্গে আর পরের ম্যাচে গোলশুন্য ড্র করে কুরাসাও এর সঙ্গে। এই বিশ্বকাপে এটাই ইকুয়েডরের প্রথম গোল, সেটাও কি না এল গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জার্মানির বিপক্ষে। এখানেই শেষ নয় ইকুয়েডরের স্বপ্নযাত্রা। জার্মান যন্ত্রকে তারা আটকে দিল লাতিন শৈলিতে। উজ্জীবিত গ্যালারি, উজ্জীবিত খেলোয়াড় আর একটা জাদুকরি মুহূর্ত। বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার, বিশ্বকাপের জন্যই যার অবসর ভেঙ্গে ফেরা সেই নয়ার এরপর হয়তো কোন বাচ্চাকে কোলে নিতেই ভয় পাবেন! বলটা যখন তার হাতের দস্তানার ঠিক উপরে ভাসছে, সেখানেই গনসালো প্লাতা বলে পা ছুঁইয়ে দিলেন! পাঠিয়ে দিলেন জালের ভেতর। তার আগে ইকুয়েডরের জন্য গোলটা আসি আসি করছিল, একবার তো এনের ভ্যালেন্সিয়ার জোরাল একটা শট দারুণ সেভও করলেন নয়ার। একাধিক আক্রমণ শেষে এসে খেই হারাচ্ছিল। কেভিন রদ্রিগেজের কর্নারে প্লাতার ফ্লিক এনে দিল সেই কাংখিত মুহূর্ত। স্টেডিয়ামের হলুদ অংশ জুড়ে উল্লাস, তাদের আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেস ট্যাকটিকাল এরিয়া ছেড়ে গ্যালারির গ্রিল বেয়ে গিয়ে প্রেয়সিকে চুমু খাচ্ছেন! এরকম দৃশ্য কেবল ফুটবলই উপহার দিতে পারে।
বিশ্বকাপে লাতিন দলের কাছে জার্মানি হেরেছে মাত্র ৪ বার, এর ভেতর দুটো ফাইনাল। ১৯৮৬ আর ২০০২ সালে, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের কাছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে ১৯৬২ সালে হেরেছিল চিলির কাছে। এরপর এই প্রথম গ্রুপ পর্বে কোন লাতিন দলের কাছে হারল জার্মানি। গেল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই জার্মানরা হেরে গিয়েছিল জাপানের কাছে। এবার গ্রুপ পর্ব শুরু করেছিল কুরাসাও এর বিপক্ষে গোল উৎসবে, আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দানিজ উন্দাভের শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়িয়েছিল জার্মানি আর ইকুয়েডরের কাছে তো হেরেই গেল ২-১ গোলে।
অন্য ম্যাচে কুরাসাও এর বিপক্ষে নিকোলাস পেপে এর জোড়া গোলে ২-০তে জিতেছে আইভরি কোস্ট।
ই গ্রুপের প্রতিটা দলেরই ৩টা করে ম্যাচ শেষ হলো। ইকুয়েডরের কাছে হারলেও জার্মানিই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, আইভরি কোস্টের সঙ্গে সমান ৬ পয়েন্ট হলেও হেড-টু-হেডে এগিয়ে জার্মানরা। আইভরি কোস্ট রানার্স আপ। তবে ১টা করে হার, জয় আর ড্র মিলিয়ে পাওয়া ৪ পয়েন্টে ইকুয়েডর জোরাল সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার।




