প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে শিশুশিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন— সংগৃহীত
রাজশাহীতে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে ২৩৮ শিশু শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ফল প্রকাশে কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ দাবিতে তারা স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃত্তির ফল থেকে বঞ্চিত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ড. আজিবর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দেশব্যাপী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলাফলে বিভিন্ন ধরনের অসংগতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেছেন, ‘ওই কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থীরও নাম বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই। বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং অবশ্যই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেছেন, ‘এবার তাদের বিদ্যালয়ের অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাচ ছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। নিশ্চয়ই কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে।
উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলেছে, সে খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে বৃত্তি পাওয়ার আশা রয়েছে। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নের জোর দাবি জানায় সে। মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ফলাফলের সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজন হলে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশোধিত ফল প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন বৃত্তি পেয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অনেক অভিভাবক লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।’
তিনি আরও বললেন, ‘এতগুলো খাতা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





