মেহেরপুরে ঘরে ঢুকে হামলার পেছনে ‘প্রেমের বিয়ের পর তালাক’ : পুলিশ

অভিযুক্ত সায়ন
মেহেরপুরে ঘরে ঢুকেন কলেজছাত্রী ও তার বাবা-মায়ের ওপর হামলার ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন ওই তরুণীর প্রাক্তন স্বামী বলে জানাচ্ছে পুলিশ। বলা হচ্ছে, সম্প্রতি তালাক দেওয়ার কারণে ক্ষোভ থেকে মেয়েটির ওপর হামলা করেন আটক সায়ন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে। পরে বুধবার সকাল ৭টার দিকে অভিযান চালিয়ে সায়নকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার। অভিযুক্ত সায়ন শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে সায়ন সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্মৃতির ওপর হামলা চালান তিনি। একপর্যায়ে কুপিয়ে তার ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্মৃতির চিৎকার শুনে তার বাবা-মা পাশের কক্ষ থেকে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে সেলিম হোসেন ও রেবেকা খাতুন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
স্মৃতির চাচা রাজু আহাম্মদ জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিনের মতো রাতে নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে মানুষের হৈচৈ শুনে বাইরে এসে স্মৃতি ও তার বাবা-মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরেক চাচা মিন্টু মিয়া বলেছেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তার ভাই, ভাবি ও ভাতিজির জীবন হুমকির মুখে পড়বে।
এদিকে অভিযুক্ত সায়নের মা জাহানারা বেগম জানিয়েছেন, তার ছেলে পেশায় পিকআপচালক। রাত ৮টার দিকে বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করে সায়ন নিজের ঘরে চলে যান। পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সায়নই এই হামলায় জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
কারণ বর্ণনায় ওসি জানালেন, প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে স্মৃতি ও সায়ন বিয়ে করেছিলেন। পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়ায় এক সপ্তাহ আগে সায়নকে তালাক দেন স্মৃতি। এর জেরেই হামলা চালিয়েছেন অভিযুুক্ত যুবক।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাত দেড়টার দিকে দুই নারী ও এক পুরুষকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। স্মৃতি নামের এক নারীর ডান হাত বিচ্ছিন্ন ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।







