দাকোপে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
খুলনার দাকোপের আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, বিদ্যালয়ে অশ্লীল ভিডিও দেখা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ইকরামূল মোল্যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাস বিদ্যালয়ের অকেজো চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ দিয়ে নিজের ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের ভূমিদাতার সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাস। তখন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ জন। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও তাদের একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে।
অভিযোগকারী ইকরামূল মোল্যা বলেছেন, ‘প্রধান শিক্ষকের অসদাচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও মান দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পড়াশোনার মান ভালো না হওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’
বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা খোকন গোলদার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের চারপাশের গাছপালা কাটা ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।’
একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের সম্পদ।’ প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘জমি দান করা শেষ, এখন আর কোনো ভালো-মন্দ জানার দরকার নেই।’
বিগত সরকারের আমলে চালনা পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয় হওয়ায় তিনি প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ড চালাতেন বলেও দাবি করেন খোকন গোলদার।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আগে বিদ্যুতের মিটার ওঠানামা করত না। এ কারণে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিজের ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল চার্জ দিয়েছেন। তবে বর্তমানে আর গাড়ি চার্জ দেন না।’
বিদ্যালয়ের অকেজো চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি করে সেই অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিপল বিশ্বাস বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার লিখিত মতামত গ্রহণ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে।’
দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেক্সোনা আক্তার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



